Thursday, November 12, 2020

রাজশাহীতে এবার রোপ আমন ধানে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা


রাজশাহীতে এবার রোপ আমন ধানে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা

মো: আমিনুল ইসলাম (বনি): চলতি মৌসুমে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের আবাদকৃত ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত। বর্তমান বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকরা বেশ আমেজেই আছেন। এ বছর সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। এ জন্য ধানের কাঙ্খিত উৎপাদন হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। পবা উপজেলার কৃষক সোনারূল ইসলাম , বারিন্দার হুমায়ন কবির ও বড়রনাইল গ্রামের কৃষক মমিনুর রহমান জানান, ধানে কীটনাশক বেশি ব্যবহার করার কারণে এবার উৎপাদন খরচ একটু বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ধান বেশি হতে পারে বলে বলছেন কৃষকরা।বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ফলে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে এবং এবারে লাভের আশাও করছেন কৃষকরা। এছাড়াও চলতি মৌসুমে মাঠ থেকে ধান কাঁটা ও মাড়াই এর জন্য শ্রমিকদের বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ধান দিতে হবে। এসব খরচ বাদ দিলে দেখা যাবে কিছু লাভ থাকবে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৯ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে অর্থাৎ ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কৃষক রাজু আহমেদ জানান,সেচ নির্ভর প্রাকৃতিক বৃষ্টিতেই এবার আমনের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে পাচঁ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলেন তিনি। এখন ধান কাটা শুরু করেছেন। বিঘাা প্রতি ফলন ১০ থেকে ১২ মণ হতে পারে। তবে ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় পুষিয়ে যাবে। আর সামনে যদি দাম কমে যায় তাহলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করছেন তিনি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে ছালমার তথ্য মতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের বাম্পার ফলনের স¤ভবনা রয়েছে। তার মতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর হতে ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন, বিতরন, সুষম সারের ব্যবহার, সেচ নির্ভর রোপা আমনে আবহাওয়ার পানি পর্যাপ্ত থাকায় ফলন ভালো হওয়ার এবারে কৃষকেরা বেশী লাভের আশা করছেন । এরই মধ্যে ১৫ শতাংশ রোপা আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আমন ধান কাটা শেষ হবে এমনটায় মনে করছেন সংশিষ্টরা।



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: