Monday, November 2, 2020

এবার চালের চালবাজদের চিহ্নিত করবে সরকার


মোটা চাল কেটে চিকন করে বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের সঙ্গে চলমান প্রতারণা বন্ধ করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ভোক্তাকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালের উৎস ধানের জাত নির্ণয় করার লক্ষ্যে ২১ জেলায় সমীক্ষা চালানো হবে।

এসব জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন নাম ব্র্যান্ডের চাল কোন কোন জাতের ধান থেকে তৈরি করা হচ্ছে, তা নির্ণয় বা অনুসন্ধানের জন্য খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) ১৩ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৩ কর্মকর্তা গত ৭ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেছেন। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে নির্ধারিত ক্যাটাগরি মোতাবেক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর সচিত্র প্রতিবেদন জমা এবং ডাটা এন্ট্রি দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংগ্রহ ও সরবরাহ) এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মো. তাহমিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, 'ভোক্তাকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন নাম ব্র্যান্ডের চাল কোন কোন জাতের ধান থেকে তৈরি করা হচ্ছে তা নির্ণয় বা অনুসন্ধানের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'

সমীক্ষার জন্য খাদ্য পরিকল্পনা

ও পরিধারণ ইউনিটের গবেষণা পরিচালক মো. হাজিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান ও ফিরোজ আল মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহযোগী গবেষণা পরিচালক রয়েছেন মিজানুর রহমান, আলিমা নুসরাত জাহান, মোস্তফা ফারুক আল বান্না, মো. ইসমাইল মিয়া, মো. আবুল হাসেম। গবেষণা কর্মকর্তা হিলেস্নাল ভৌমিক, মো. মেহেদী হাসান সোহাগ, ধীমান সেন, প্রসেনজিৎ শিকদার এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার শহীদুলস্নাহও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এই ১৩ কর্মকর্তা যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, নওগাঁ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, টাঙ্গাইল, কুমিলস্না, নোয়াখালী, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সমীক্ষা চালাবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, একশ্রেণির অসাধু চালকল মালিক মোটা চাল চিকন করে মিনিকেট, নাজিরশাইল, কাজল নামে বাজারজাত করছেন। এতে মোটা চালের ভেতরের অংশ বেশি দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। চালের উপরিভাগে যে পুষ্টি থাকে তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ওই চালের ভোক্তা। এতে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, দেশে উৎপাদিত চালের ৮৫ শতাংশই মোটা আর ১৫ শতাংশ চিকন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বোরো ও আমন মৌসুমে ব্যাপকভাবে চাষ হয় ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান। কিন্তু চালের বাজারে এই নামে কোনো চাল নেই। বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামে চাল পাওয়া যায়, অথচ এই নামে ধানের কোনো জাত নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্রি-২৮ এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্রি-২৯ ধান কেটে 'মিনিকেট' নামে বাজারজাত করা হয়। একইভাবে ব্রি-২৯ ধান অধিক ছাঁটাই ও পলিশ করে চালের নাম দেওয়া হয় 'নাজিরশাইল'।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: