বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন উপহার দিচ্ছে চীন


চীন কর্তৃক উদ্ভাবিত সিনোভ্যাকের টিকার ট্রায়াল হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে খরচ ভাগ করে নিতে বলেছিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে রাজি হওয়ায় সেই কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।

এরপরেই ঢাকা দিল্লির কাছে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহের জন্য মোদি সরকারের মাধ্যমে সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে।

গত ২১ জানুয়ারি ঢাকায় কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ২০ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পাঠায় ভারত।

এবার বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ এর টিকা উপহার হিসেবে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চীনের এই লিখিত প্রস্তাব এসে পৌঁছেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, চীন আমাদেরকে উপহার হিসেবে ভ্যাকসিন পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংখ্যাটা ২ লাখেরও বেশি। এ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে আমরা প্রস্তাবটিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। দেখি তারা কী জানায়।

এ কে আবদুল মোমেন জানান, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য আমরা চতুর্মুখী চেষ্টা চালাচ্ছি। ভরত থেকে আরো ভ্যাকসিন আনার জন্য একটা নতুন চুক্তি করার কথা ভাবা হচ্ছে। এদিকে চীনের উপহার পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাশিয়ার উদ্ভাবিত টিকা আমদানি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৯০ লাখ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে। গত ২০ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো টিকা এসে পৌঁছায়। সেটা ছিল ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেওয়া ২০ লাখ ডোজ। পরবর্তীতে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা, যা ছিল সেরামের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির আওতায় প্রথম চালান। তারপর দ্বিতীয় চালান হিসেবে এসেছে আরও ২০ লাখ ডোজ।

২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে দেওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি।

Post a Comment

0 Comments