৫০ যুদ্ধবিমান ২০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালাল গাজায়

 


গাজায় ইসরায়েলি হামলা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হামাস ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলা-পাল্টা হামলা গড়িয়েছে অষ্টম দিনে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশগুলোর তরফ থেকে উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার আহ্বানও জোরালো হচ্ছে।

কিন্তু, আন্তর্জাতিক জনমতকে অনেকটা উপেক্ষা করেই গাজায় হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। গাজার একাধিক স্থানীয় অধিবাসী ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে রবিবার ছিল গাজার অধিবাসীদের জন্য ভয়ঙ্করতম দিন।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার মধ্যরাতের পর ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর ৫০ টি যুদ্ধবিমান পুরো বিশ মিনিট ধরে গাজার মূল শহর ও তার তার আশপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। ইসরায়েলের সেনা কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, বিমান বাহনী ইসরায়েলের জন্য ‘বিপজ্জনক’ ৩৫টি লক্ষ্যবস্তু ও হামাস যোদ্ধাদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গপথ, যেগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছে।

তবে গাজার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ইসরায়েল সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় সেখানকার কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রচুর সংখ্যক বাড়িঘর, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাজার বেশিরভাগ এলাকা রয়েছে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় আছেন গাজার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থাকা করোনা রোগীরা। একাধিক হাসপাতালের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গাজার অধিকাংশ হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই। জ্বালানী সংকট চলার কারণে জেনারেটরও চালু করা যাচ্ছে না।

তারা আরও জানান, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় গাজার এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানে স্থানে পড়ে আছে ধ্বংসস্তুপ। ফলে গাজার বেশিরভাগ এলাকায় জ্বালানী সরবরাহ বর্তমানে বন্ধ আছে, যেসব যায়গায় সরবরাহ চালু আছে তাও একেবারেই অনিয়মিত।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবারের হামলায় গাজায় নিহত হয়েছেন মোট ৪২ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও ১৬ জন নারী আছেন।

অবশ্য গাজা অঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক দল হামাসও নিশ্চুপ বসে ছিল না। রবিবার রাতভর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপণা লক্ষ্য করে হামাস ৩ হাজারেরও বেশি রকেট ছুঁড়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা।

অ্যান্টি মিসাইল ডিফেন্স ডিভাইস আয়রন ডোম দিয়ে সেগুলো অনেকগুলো ধ্বংস করা গেলেও কয়েকটি রকেট ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

হামাসের ছোড়া রকেটের আঘাতে এ পর্যন্ত ১০ ইসরায়েলি নাগরিক মারা গেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা।

গাজার বাসিন্দা মহামেদ আমেদ রাব্বো (৩৯) ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘এই মাত্রার সংঘর্ষ নিকট অতীতে গাজাবাসী কখনও দেখেনি। আমরা খুবই ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।’

Post a Comment

0 Comments