রাজশাহী মুক্ত দিবস আজ


১৮ ডিসেম্বর, রাজশাহী মুক্ত দিবস। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও রাজশাহীবাসী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। ১৮ ডিসেম্বর এই দিনে রাজশাহী ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলেন লাল গোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

এ সময় রাজশাহীর মুক্তিকামী মানুষ স্বজন হারানোর কষ্ট ভুলে স্বাধীনতার স্বাদ নেয়।উল্লাস প্রকাশ করে গোলাপ পানি আর ফুলের পাপড়ি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীকে বরণ করে নেয়।মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, দেশ স্বাধীনে শেষ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাক বাহিনীদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে পাক সেনারা পিছু হটে। পিছু হটার সময় পাক সেনারা রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে অভয়ার ব্রিজ ও সারং ব্রিজ।

এই দুটি ব্রিজ ছিল রাজশাহী প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। এই ব্রিজ দুটি স্থানীয়দের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধরা মাটি তুলে ভরাট করে রাস্তা তৈরি করে। এতে একদিন সময় লেগে যায়। ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বীর প্রতীক নুর হামীম রিজভীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এসে অবস্থান নেয়।

রাতে শহরের দিকে প্রবেশের জন্য তাদের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তারা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানেই অবস্থান নেন। পরের দিন ১৮ ডিসেম্বর সকালে রাজশাহী উপশহরসহ বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর পেতে রাখা ল্যাণ্ডমাইণ্ড অপসারণ এবং পুরো এলাকা শক্রু মুক্ত করে।

ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে নির্যাতিত মানুষ একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে স্বাধীন বাংলার মুক্ত বাতাসে। মুক্তিকামী জনতার ঢল নামে রাজশাহী শহরের প্রতিটি সড়কে।

Post a Comment

0 Comments