Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Wednesday, September 21, 2022

রাজশাহীতে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান জুনিয়র টেনিস প্রতিযোগিতা শুরু

রাজশাহীতে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান জুনিয়র টেনিস প্রতিযোগিতা শুরু


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীতে এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টেনিস কমপ্লেক্স আয়োজিত শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান জাতীয় জুনিয়র টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২২ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টেনিস কমপ্লেক্সে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

উদ্বোধনের পূর্বে জুনিয়র টেনিস খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হন রাসিক মেয়র। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের সম্মননা স্মারক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় সপুরা সিল্ক মিলস্ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টেনিস কমপ্লেক্স। প্রতিযোগিতাটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিযোগিতায় বালক/বালিকা অনূর্ধ্ব-১২, বালক/বালিকা অনূর্ধ্ব-১৪, বালক/বালিকা অনূর্ধ্ব-১৬ ও বালক অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাটাগরিতে ১৩টি ক্লাবের ১২০ খেলোয়াড় ও কোচ অংশ নিয়েছেন।

আগামীতে প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, কলকাতার বেঙ্গল টেনিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন ঘোষ, সপুরা সিল্ক মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদ আলী। অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টেনিস কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম টেনিস কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক মো. এহসানুল হুদা দুলু।

Thursday, July 7, 2022

কোরবানির সকল বর্জ্য ঈদের রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হবে : রাসিক মেয়র

কোরবানির সকল বর্জ্য ঈদের রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হবে : রাসিক মেয়র


 

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ঈদুল আযহার দিনে রাতের মধ্যেই রাজশাহী মহানগরীর কোরবানির সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশুজবেহকরণ এবং পরবর্তীতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে মহানগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ‘নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশুজবেহকরণ ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ’ বিষয়ে ওয়ার্ড সচিব সুপারভাইজার এবং পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ও কেন্দ্রীয় সুপারভাইজারগণের সমন্বয় সভায় এই কথা বলেন রাসিক মেয়র।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, দ্রুত সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীর প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় গতবারের মতোই এবারো ঈদের রাতের মধ্যেই আমরা কোরবানির সকল বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হবো।

মেয়র আরো বলেন, নগরবাসীসহ সকলের সহযোগিতা রাজশাহী এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভায় উল্লেখ করেন কিভাবে রাজশাহী সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেখতেও বলেন।

নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ উন্নয়নসহ সকল ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখে চলেছে। ইপিআই কার্যক্রমে পরপর দশবার দেশসেরা। পরিবেশ উন্নয়নে দ্বিতীয়বারের মত এ বছরও জাতীয় পরিবেশ পদক লাভ করেছে। দেশি-বিদেশী সকলেন নিকট ইতোমধ্যে রাজশাহী পরিচ্ছন্ন সবুজ ও নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে।

রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সদস্য ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস.এম মাহবুবুল হক, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন ডলার, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু। সভায় ওয়ার্ড সচিব সুপারভাইজার এবং পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ও কেন্দ্রীয় সুপারভাইজারগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ঈদুল আযহার দিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা-০১৭৪০০০৩০৪০, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মনিটরিং-০১৭১৩০৯৮৯৫৬, অফিস সহকারী-০১৭১৬৪০৮০৭১ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Friday, July 1, 2022

 গৌরবময় সেবার ৩০ বছরে পদার্পণ করলো রাজশাহী  মেট্রোপলিটন পুলিশ

গৌরবময় সেবার ৩০ বছরে পদার্পণ করলো রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ

 


 


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  আজ ১ জুলাই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘শৃঙ্খলা সেবা নিরাপত্তা  মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গৌরবময় সেবার ২৯ বছর পেরিয়ে ৩০ তম বছরে পদার্পণ করল আরএমপি । বর্ণাঢ্য র‌্যালি-সহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হলো আরএমপি'র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ শুক্রবার ১ জুলাই  বেলা ১১ টায় আরএমপি’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর ভেড়িপাড়া মোড়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার), ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মহোদয়। র‌্যালিটি ভেড়িপাড়া মোড় হতে শুরু হয়ে পুলিশ লাইন এ এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য-সহ আরএমপি পুলিশের ব্যান্ড দল অংশ গ্রহন করে। র‌্যালি শুরুর পূর্বে প্রধান অতিথি মহোদয় বেলুন ফেস্টুন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সাথে ছিলে আরএমপি পুলিশ কমিশনার জনাব মো: আবু কালাম সিদ্দিক মহোদয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‌্যালি শেষে প্রধান অতিথি মহোদয় পুলিশ লাইনস্ েবিশেষ রক্তদান কর্মসূচি, অনাবাদী জমিতে সবজি চাষের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্যপোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।   

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব আবু হাসান মোহম্মদ তারিক, বিপিএম, প্রিন্সিপাল (এ্যাডিশনাল আইজি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহী, জনাব মো: আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম, ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ, আরএমপি ও রাজশাহী রেঞ্জ এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

আরএমপি রাজশাহীর জননিরাপত্তা বিধান ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে ৩০ বছর ধরে। বাংলাদেশ পুলিশের  ইউনিট আরএমপি  ১৯৯২ সালের ১লা জুলাই ৪টি থানা ও ১০টি ফাঁড়ি নিয়ে গঠিত হয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ।এরপর থেকে জনবহুল রাজশাহী মহানগরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে নিরলসভাবে কাজ করছে আরএমপি ।৭৮ বর্গ কলোমিটার এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ২০১৮ সালে ৪টি থানার স্থালে ১২টি থানায় রুপান্তর করা হয়। ১২ টি থানা এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮ বর্গ কিলোমিটার থেকে ৪৭২ বর্গ কিলোমিটার।  প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত জ্ঞান অর্জনকে প্রাধান্য দিয়ে, সৃজনশীলতা এবং জনঅংশীদারিত্বকে অন্যতম কার্যকৌশল হিসেবে গ্রহণ করে বহুমাত্রিক এ নগরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশী জনবল ও থানা বৃদ্ধির কারণে ক্রমান্বয়ে রাজশাহী মহানগরীর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে চলে আসে। শান্তির নগরীর রাজশাহী হয়ে উঠে আরও শান্তিময়।

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ভয়াল মহামারী কোভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস মহামারী রুপ নিলে রাজশাহী শোচনীয় পরিস্থিতির শিকার হয়। তখন সরকারী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বেশ কিছু জন সেবা মূলক পদক্ষেপ নিয়ে করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়ায়। যা রাজশাহীবাসীকে উদ্বেলিত করেছে। উজ্জ্বল করেছে পুলিশের ভাবমূর্তি।

করোনাকালে আরএমপির পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের সময়োপযোগী মানবিক পদক্ষেপ বিশেষত আরএমপি'র পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক বাড়ী বাড়ী অক্সিজেন সেবা দেয়া হয়। সকলে যেন নায্য মূল্যে অক্সিজেন ক্রয় করতে পারে সে জন্য নায্য মূল্যে অক্সিজেন বিক্রয়ের চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নগরবাসীর মাঝে প্রায় দেড় লক্ষ মাস্ক  ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে মানবিক সংকটে পড়া অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠি সহ বিভিন্ন নিম্ন আয়ের পেশাজিবী প্রায় ১১ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। শুধু শহরেই নয় প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চরমাজারদিয়াড়েও নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি চরবাসীর যোগাযোগের জন্য রাস্তা তৈরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।  একই সাথে নগর জুড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, রাজশাহী নগরীতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে নগরজুড়ে ৫০০ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন নগরবাসী। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান বলেন, অপরাধপ্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।বর্তমানে রাজশাহী নগর বাসী এর সুফল ভোগকরছে। নগরজুড়ে ৫০০ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন এর সুবাদে নগরীর বিভিন্ন হত্যাকান্ডের আসামী ,ছিনতাইকারী সনাক্তও গ্রেফতারে করা সম্ভব হচ্ছে।

২০২০ সালে ২৭ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। রাজশাহী মহানগরে যাতে কোনো ধরনের সাইবার ক্রাইম সংঘটিত না হয় এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র এই ইউনিট কাজ শুরু করে। সাইবার ইউনিটের সাহায্যে গত এক বছরে  বিভিন্ন ধরণের প্রমাণহীন তিন শতাধিক অপরাধের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড রয়েছে। আরএমপির সাইবার ইউটিনের অপারেশানাল এক্সপার্ট এসিপি উৎপল কুমার চৌধুরী বাংলার সকালকে বলেন, আরএমপির সাইবার ইউনিটের সাহায্যে এ পর্যন্ত  নগরীর বাসাবাড়ি ও সড়কে মোটরসাইকেল চুরির শতাধিক ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩০টির বেশি ছিনতাই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে নগরীতে অপরাধীদের দৌরাত্ম কমেছে।

 

 কিশোর অপরাধীদের ডাটাবেজ তৈরীর কারণে অপরাধীদের কর্মকান্ড প্রায় নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।‘রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এলাকায় কিশোর অপরাধ দমনে তৈরি করা হয় কিশোর গ্যাং ডিজিটাল ডাটাবেজ। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ কিশোরের বিস্তারিত তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিশোর অপরাধের সাথে জড়িত কিশোরদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, অভিভাবকের নাম, প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা, সম্ভাব্য চলাচলের এলাকা, মোবাইল নম্বর, ছবিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত স্থানীয় থানা পুলিশের মাধ্যমে সংগ্রহ করে এই ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের সংশোধন করতে চাই আমরা। এরা যেন রাষ্ট্রের আইন সম্পর্কে সচেতন হয়। এর সঙ্গে মানবিকতা ও মূল্যবোধ যদি জাগ্রত করে দেয়া যায়, তাহলে অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।

রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  বলেন ,বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে আরএমপি’র ১২টি থানার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আরএমপি’র ১২টি থানার মধ্যে সরকারী জায়গায় স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি থানা গুলো যেন নিজস্ব ভবনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজার বাগ পুলিশ লাইনে সম্মুখ যুদ্ধ চালানো হয়। সেই সময়ের শহীদ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের স্মরণে রাজশাহী পুলিশ লাইস্ এ গড়ে তোলা হচ্ছে পুলিশ স্মৃতি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  এর উদ্যোগে এই যাদুঘরটি নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যয়ে। স্থানীয় দাতাদের সহোযগিতায় পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মান হচ্ছে । রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  জানান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশনায় পুলিশের ইতিহাস সংরক্ষনের জন্য এই যাদুঘর নির্মান করা হচ্ছে। এই যাদুঘরের মাধ্যমে ভবিষৎ প্রজন্ম স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের অবদান জানতে পারবে।শহীদ পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের স্মৃতি সংগ্রহ করছি।

 সব মিলিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ত্রিশ বছরে কাঙ্খিত সুফল দিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে এই পুলিশী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি।

 

 



Sunday, June 26, 2022

 জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ৯৯তম জন্মদিন উদযাপন

জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ৯৯তম জন্মদিন উদযাপন


 


রাজশাহীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ৯৯তম জন্মদিন  উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল, কেক কাটা, র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় পরিবার ও দলীয় নেতৃবৃন্দ, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর-কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে নগরীর কাদিরগঞ্জে শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর পুত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে শহীদ কামারুজ্জামানের পুত্রবধূ সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, দৌহিত্র ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর শহীদ কামারুজ্জামানের সহধর্মিনী মরহুমা জাহানারা জামানের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার সহ নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর রাসিকের কাউন্সিলর-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি মেয়র।

এদিন সকাল থেকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধীসৌধ।
 
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রুয়েট উপাচার্য, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমাণ্ড, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ, মহানগর যুবলীগ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ, মহানগর যুব মহিলা লীগ, মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর শ্রমিকলীগ, মহানগর কৃষকলীগ, বোয়ালিয়া, রাজপাড়া মতিহার ও শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগ,একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, রাবি ও রুয়েট শাখা ছাত্রলীগ, সন্ধানী রামেক ইউনিট, রুয়েট বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদ, রাজশাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপ, জেলা যুবলীগ, রাজশাহী জেলা মৎসজীবী লীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতি, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ, জেলা কৃষকলীগ, জেলা শ্রমিক লীগ, রাজশাহী কলেজ, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি ফেডারেশন রাজশাহী জেলা ও মহানগর, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ক্যান্টমেন্ট শাখা, শহীদ নজমুল হক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, ১৪নং ওয়ার্ড পূর্ব আওয়ামীলীগ, সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম, রাবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ, রুয়েট ছাত্র-শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ৩নং ওয়ার্ড দামকুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, শিরোইল বাস্তুহারা এলাকবাসী সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।


পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু



অবশেষে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৬ জুন) সকাল ছয়টায় মাওয়া ও জাজিরা দুই প্রান্ত থেকেই যান চলাচল শুরু হয়।

মাওয়া প্রান্তে গাড়ি চলাচলের আগে থেকেই টোল প্লাজার সামনে ছিল গাড়ির বিশাল চাপ। মাধ্যরাত থেকেই এসব গাড়ি অপেক্ষমান। পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়াও আছে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল। ট্রাক ছাড়া যাদের বেশিরভাগই এসেছেন ঘুরতে। পুরো পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে পুলিশ। টোল প্লাজা থেকে ছোটার পর মানুষের মধ্যে দেখা গেছে অন্যরকম উচ্ছ্বাস।

ওদিকে জাজিরা প্রান্তেও যানবাহনের সারিও দীর্ঘ রয়েছে। এখানেও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি আছে পণ্যবাহী ট্রাক। এই প্রান্তে দেখা গেছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।

মাওয়া প্রান্তে ছয়টি কাউন্টার চলছে। অর্থাৎ ছয়টি লেন দিয়ে গাড়ি চলছে। একটি ভিআইপি কাউন্টার আছে। ছয়টি কাউন্টারই ম্যানুয়ালি চলছে। যেগুলোকে অটো করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ওদিকে জাজিরা প্রান্তে সাতটি টোল কাউন্টার রয়েছে।

এর আগে, গতকাল দুপুরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ওইদিন উন্মুক্ত গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেয়া হয়নি।

Saturday, June 25, 2022

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


 


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার মধ্যে দিয়ে খুলে গেল দখিনা দুয়ার।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে মাওয়া প্রান্তে টোল পরিশোধ শেষে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক সেতু সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া।

প্রধানমন্ত্রীর পেছনে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে হেলিকপ্টারে করে সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন। সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।

উদ্বোধনের আগে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম ও বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মাওয়ায় স্থাপিত টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। পরে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।

এরপর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা প্রান্ত থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

গত ২৪ মে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই দৃঢ় মনোবলের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী মূল সেতুর পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন। এরপর একে একে সব ধাপ পেরিয়ে পদ্মার বুকে গড়ে ওঠে স্বপ্নের সেতু।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এ সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত।

একইসঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

Thursday, June 23, 2022

৭৪ বছরে আওয়ামী লীগ

৭৪ বছরে আওয়ামী লীগ



আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, স্বধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিএনপি ও তাদের দোসরদের মোকাবেলা করাই এখন চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

 শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের

শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের



পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। মাওয়া প্রান্তে হবে সুধী সমাবেশ; আর মাদারীপুরের শিবচরে হবে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা। এসব আয়োজনের প্রস্তুতি ঘিরে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শনিবার (২৩ জুন) সকাল ১০ টায় সেখানে সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচনের পর টোলপ্লাজায় টোল দিয়ে পদ্মাসেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন তিনি। মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশ ঘিরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। রঙ-বেরঙ এর ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা পদ্মাসেতু এলাকা।

আর মাদারীপুরের শিবচরে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। জোরেশোরে চলছে মঞ্চ বানানো ও আনুষাঙ্গিক কাজ।

সুধী সমাবেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেবেন। এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে পদ্মাসেতু এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া চলছে সেখানে। এছাড়া জাতীয় পতাকা নিয়ে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মহড়ার পাশাপাশি বিমান মহড়া দিয়েছে বিমানবাহিনী।

Tuesday, June 21, 2022

পুলিশের অবদান-আত্মত্যাগের ইতিহাসে রাজশাহীতে নির্মিত হচ্ছে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর:  আরএমপি কমশিনার

পুলিশের অবদান-আত্মত্যাগের ইতিহাসে রাজশাহীতে নির্মিত হচ্ছে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর: আরএমপি কমশিনার

 

রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন। প্রধান সড়ক থেকে মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই হাতের বাম পাশে দুই হাজার ৮৫০ বর্গফুট আয়তনে নির্মিত হচ্ছে রাজশাহী পুলিশ  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর। স্বাধীনতার সুর্বন জয়ন্তী  ৫০ বছর পার করলো দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান এখোনো নতুন প্রজন্মেও কাছে অজানা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহীতে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয় রাজশাহী পুলিশ লাইনসে। 

একাত্তরের ২৮ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে কমপক্ষে ১৭ জন পুলিশ সদস্য শহীদ হন।এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ আরও ছয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যসহ ২৩ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ লাইনসে ভেতরে গণকবরে সমাহিত করা হয়। 

 

মুক্তিযুদ্ধের সেই স্মৃতি সংরক্ষণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  এর উদ্দ্যেগে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  এর উদ্যোগে এই জাদুঘরটি নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যয়ে।

 স্থানীয় দাতাদের সহোযগিতায় পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মান হচ্ছে । গত ৩ জানুয়ারি পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  জানান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশনায় পুলিশের ইতিহাস সংরক্ষনের জন্য এই যাদুঘর নির্মান করা হচ্ছে। এই যাদুঘরের মাধ্যমে ভবিষৎ প্রজন্ম স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের অবদান জানতে পারবে।শহীদ পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের স্মৃতি সংগ্রহ করছি।এই যাদুঘরেই নতুন প্রজন্মের জন্য উপস্থাপিত হয়েছে পুলিশের অবদান, আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই জাদুঘরে সংগৃহীত শহীদ মামুন আহমেদের টুপি ও পোশাক রাখা আছে। 

এছাড়াও জাদুঘরের দেয়ালে টাঙ্গানো হয়েছে  শহীদ পুলিশ সুপার শাহ আব্দুল মজিদ ও ডিআইজি শহীদ মামুন মাহমুদের ছবি। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ৮৩ জন শহীদ পুলিশ সদস্য দের নাম গন কবরের ১৭ জন শহীদে পুলিশ সদস্যদের নাম ও পদবী ও ২৭ মুক্তিযোদ্ধার নাম ও পরিচয় সাটানো হয়েছে।
রাজশাহী  নগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক  জানান, পুলিশ  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর এর নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।শিগরিই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান  খান কামাল পুলিশ  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর উদ্বোদধন করবেন।







Wednesday, June 15, 2022

কুসিক নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ

কুসিক নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ

 



কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ (ইউপি) মোট ১৮৯টি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে এদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। নির্বাচনের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ভোটকে সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (১৪ জুন) জানিয়েছিলেন, বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। একই দিন একটি উপজেলায় সাধারণ নির্বাচন ও তিনটি উপজেলায় বিভিন্ন পদে উপ নির্বাচন, পাঁচ পৌরসভায় সাধারণ ও একটি ওয়ার্ডে উপ নির্বাচন, ১৩২টি ইউনিয়নে সাধারণ ও ৪৭টি ইউপিতে বিভিন্ন পদে উপ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানিয়েছেন, এর মধ্যে কুসিক, ১৩২ ইউপি ও দুটি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবার কুসিক নির্বাচনে গোটা ভোটকেন্দ্রই থাকছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এতে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে লাগানো হয়েছে ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা।


এসব বিষয়ে আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এতে মোট ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা ভোটারসহ সবার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। এ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ পথ ও ভোটকক্ষের প্রবেশ পথে সিসি ক্যামেরা বসানো থাকবে।

এ দিকে কুমিল্লা সিটির ভোটে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। নির্বাচনের প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৫ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে সার্বক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ, আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৭টি মোবাইল টিম এবং ৯টি স্ট্রাইকিং টিম রয়েছে।

এসবের পাশাপাশি দুটি রিজার্ভ টিম আছে। এ সিটিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ২৭টি মোবাইল টিম এবং ১২ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকছে।

উল্লেখ্য, ভোটের এলাকায় প্রচার শুরুর আগে থেকেই বিজিবির একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে।

কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হিসেবে কামরুল আহসান বাবুল, মো. মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি নেতা ও দুইবারের মেয়র), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মাসুদ পারভেজ খান। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। অর্থাৎ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচ প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলে ১৪০ জনের মতো প্রার্থী আছে ভোটের মাঠে। এ নির্বাচনে ৫ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষে। কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে দুজন।

আইন অনুযায়ী, প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হয় নির্বাচিত কর্পোরেশনের মেয়াদ। কুমিল্লা সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ১৬ মে। আর ভোটগ্রহণ করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। এ হিসেবে গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ সিটি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। নির্বাচিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ১৭ মে। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ১৬ মের মধ্যে করার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বিগত কমিশন বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসায় আর তফসিল দেয়নি। ফলে অতি অল্প সময়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এই সিটি পরিচালনায় দায়িত্ব দিতে হয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে। নির্বাচনের পর নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত তিনি কর্পোরেশন পরিচালনা করবেন।

Saturday, June 11, 2022

১৯ জুন থেকে এসএসসি পরীক্ষার শুরু

১৯ জুন থেকে এসএসসি পরীক্ষার শুরু



চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড এ রুটিন প্রকাশ করেছে। এবার এসএসসি পরীক্ষা আগামী ১৯ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ৬ জুলাই। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে প্রতিদিনের পরীক্ষা।

এসএসসিতে এ বছর বাংলা, ইংরেজি, গণিত, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, সংগীত, আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া, চারু ও কারুকলা, পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ, ভূগোল ও পরিবেশ, উচ্চতর গণিত, হিসাববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।



এবার বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র ও সহজ বাংলা প্রথমপত্র ১৯ জুন, বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয়পত্র ও সহজ বাংলা দ্বিতীয়পত্র ২০ জুন, ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথমপত্র ২২ জুন ও ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয়পত্র ২৫ জুন, গণিত (আবশ্যিক) ২৭ জুন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), কৃষিশিক্ষা (তত্ত্বীয়), সংগীত (তত্ত্বীয়), আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়) এবং চারু ও কারুকলা (তত্ত্বীয়) ২৮ জুন, পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ৩০ জুন, রসায়ন (তত্ত্বীয়), পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ আগামী ২ জুলাই, ভূগোল ও পরিবেশ ৩ জুলাই, উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ৪ জুলাই, হিসাববিজ্ঞান ৫ জুলাই, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং অর্থনীতি পরীক্ষা ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

হার্ট অ্যাটাক হয়েছে খালেদা জিয়ার : ব্যক্তিগত চিকিৎসক

হার্ট অ্যাটাক হয়েছে খালেদা জিয়ার : ব্যক্তিগত চিকিৎসক

 




বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আজ শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে রাত ৩টা ২০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল বোর্ড অতি দ্রুত তাঁর হৃদযন্ত্রে এনজিওগ্রাম করার কথা জানিয়েছিল। একই সঙ্গে ম্যাডামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের ব্যবস্থা নিতে বলেছে মেডিকেল বোর্ড। এখন সরকারের কাছ থেকে অনুমতির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া হবে। সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

এদিকে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিস্তারিত জানাবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

 খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, বিশেষ করে এনজিওগ্রাম করার পর বোঝা যাবে সমস্যা কতটা জটিল। এমনিতেই তো তিনি (খালেদা জিয়া) গুরুতর পেশেন্ট। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘চিকিৎসকেরা এরই মধ্যে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করেছেন, সেগুলো অনুযায়ী আগের দিন বিকেল থেকে তাঁর হার্টে কিছু সমস্যা দেখা গেছে। তিনি তো একটু চাপা স্বভাবের মানুষ, কিছু বলেননি কাউকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ডা. এফ এম সিদ্দিক তাঁকে চেকআপ করতে গেছেন, তখনই তাঁর প্রবলেমের বিষয়টি জানা যায়। তখনই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘দিবাগত রাত ২টার দিকে ডা. এ জেড এম জাহিদের কাছে খবর পাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থবোধ করছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ম্যাডামের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আমি চলে আসি। আসার পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গেও কথা হয়। এরপর হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, দোয়া করি আগের মতোই তিনি অসুস্থতা কাটিয়ে উঠবেন এবং সুস্থ হয়ে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন।’

এর আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনায় আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বৈঠকে বসেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা। বৈঠকে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, এভারকেয়ার হাসপাতালের ডা. জাফর, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদলের প্রধান ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

Thursday, June 9, 2022

 ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর




জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বেলা ৩ টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি দেশের ৫১তম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে চতুর্থ বাজেট। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সেই তুলনায় ২০২২-২৩ নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য প্রশমন, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোকে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে বাজেট সংক্রান্ত সব নথিপত্র অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে www.mof.gov.bd  তে পাওয়া যাবে।দেশ-বিদেশ থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এটি ডাউনলোড করে ওয়েবসাইটের প্রতিক্রিয়া ফর্ম পূরণের মাধ্যমে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ পাঠাতে পারবেন।সমস্ত মতামত এবং সুপারিশ বিবেচনা করা হবে এবং গৃহীত সুপারিশগুলো জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট পাসের সময় বা এর পরবর্তীকালে কার্যকর করা হবে।বাজেট সংক্রান্ত সকল নথি নিম্নলিখিত সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে পাওয়া যাবে:

https://nbr.gov.bd
https://plandiv.gov.bd
https://imed.gov.bd

 দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট আজ

দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট আজ


দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট আজ

আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেটে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নে ব্যয় বাড়ছে চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের এই বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বাজেটে ব্যয় বাড়লেও তেমন বাড়েনি আয়। বাজেটে তাই ঘাটতিও বেড়েছে বড় আকারেই। এদিকে, ব্যয়ের হিসাবে বাজেট বাড়লেও জিডিপির বিবেচনায় বাজেটের আকার এবার কমছে ২ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে সাড়ে ৭ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি বেঁধে রাখা হবে সাড়ে সাড়ে ৫ শতাংশে।

আগামী বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আয়ের পরিমাণ হতে হবে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে আসবে অবশিষ্ট আয়।

আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছর বাজেটের আকার ধরা হয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ থাকছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত হতে চলেছে পরিবহন ও যোগাযোগ। অন্যদিকে বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হচ্ছে চার লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা । যা মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৬৪ শতাংশ।

অন্যদিকে করোনার প্রভাব কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেলেও তার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অসস্থিতীশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভর্তুকি বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে বাজেটে প্রণোদনা ও ভর্তুকিতে বরাদ্দ থাকছে ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যার যাবে কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে।

দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেটে ঘাটতিও হবে সর্বোচ্চই। ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এতো বিশাল অংকের ঘাটতি পূরনে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত ঋণে পরিমাণ হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা,অবশিষ্ট আসবে সঞ্চয়পত্রের ঋণ থেকে।

দেশের ইতিহাসের ৫১তম আর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২৩তম এই জাতীয় বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পূর্ণাঙ্গ শেষ বাজেট। বর্তমান সরকারের শেষ এই বাজেটে কর্মসংস্থান তৈরিসহ মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নয়নকেই সবার উপরে স্থান দিতে চায় সরকার।

Tuesday, June 7, 2022

 বাংলাদেশে মাথাপিছু খাদ্য অপচয় বছরে ৬৫ কেজি

বাংলাদেশে মাথাপিছু খাদ্য অপচয় বছরে ৬৫ কেজি

 


বাংলাদেশে প্রতি বছর যত খাবার উৎপাদন হয়, তারও একটি বড় অংশ নষ্ট হয়। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপ ২০২১ সালে ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স নামে রিপোর্ট প্রকাশ করে। যাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে এক কোটি ৬ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়।

ইউনেপের ওই ইনডেক্স অনুযায়ী একজন বাংলাদেশি বছরে ৬৫ কেজি খাদ্য উপাদান কিংবা তৈরি খাদ্য নষ্ট করেন। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি দেশে খাবারের এত অপচয় কেন হয়? কিভাবেই বা সেটি ঠেকানো যাবে? ইউনেপ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয় হয় চীনে। সেখানে বছরে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ ৯ কোটি ১৬ লাখ টন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ খাদ্য অপচয় হয় বাংলাদেশে।

উৎপাদনের শুরু থেকে অর্থাৎ সেটি মাঠে শস্য উৎপাদন হোক কিংবা সবজি, ফল, মাংস, ডিম বা দুধ যাই হোক না কেন, সেটি মানুষের খাবারের প্লেটে যদি না পৌছায়, অথবা প্লেটে পৌঁছেও নষ্ট হয় তবে সাধারণভাবে তাকে খাদ্য অপচয় বলা যায়।উৎপাদনের পর যদি সেটি খাওয়ার যোগ্য না হয়, মানে সেটি যদি পচে যায়, বা মান সম্পন্ন না হয়, সেটিও খাদ্য অপচয় বলে গণ্য হয়। ইংরেজিতে বিষয়টি বোঝানোর জন্য 'ফুড লস' এবং 'ফুড ওয়েস্ট' দুইটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলায় এ দুইটিকেই খাদ্য অপচয় বলে বর্ণনা করা হয়।

তবে 'ফুড লস' ফুড ভ্যালু চেইন বা খাদ্যচক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে আর 'ফুড ওয়েস্ট' হয় এই চক্রের শেষ প্রান্তে। যখন শস্যদানা যেমন চাল-গম-ডাল, সবজি ও ফল, বিভিন্ন প্রাণীর মাংস, ডিম বা দুধ এসব উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যেসব অপচয় হয় তাকে 'ফুড লস' বলে।

কিন্তু যখন এসব খাবার বাড়ি বা রেস্তোরাঁ বা কম্যুনিটি সেন্টারে রান্নার পর অপচয় হয় তখন সেটিকে 'ফুড ওয়েস্ট' বলা হয়। দুই হাজার একুশ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও বাংলাদেশে একটি গবেষণা চালায় যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে উচ্চ আয়ের পরিবারে বেশি খাদ্য অপচয় হয়।

ওই গবেষণা দলের প্রধান ছিলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান।তিনি বলেছেন, তাদের গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন উচ্চ আয়ের পরিবারে এক মাসে মাথাপিছু ২৬ কেজি খাদ্য অপচয় হয়। তুলনায় মধ্য এবং নিম্ন আয়ের পরিবারে অপচয় কম হয়।

অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশে কয়েকটি ধাপে খাদ্য অপচয় হয়। তবে ফসলের ক্ষেত থেকে খাদ্যসামগ্রী বাজারে এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অপচয়টি হয়। এর মধ্যে ফসল তোলার পর্যায়ে এক ধরণের অপচয় হয়, এরপর মজুদ বা সংরক্ষণ করা এবং ব্যাপারীর মাধ্যমে সেটি বাজারজাত করার সময় আরেকবার অপচয় হয়।এরপর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যখন বড় শহরে ফসল, সবজি ও ফল, মাংস, ডিম, বা দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আসে তখন আরেক দফায় অপচয় হয়।

কারণ হিসেবে অধ্যাপক হাসান বলেছেন, দেশে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কম, ফলে মাঠ থেকে ফসল তোলা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মজুদ, তারপর সেগুলো বাজারে পরিবহন-এর প্রতিটি পর্যায়েই অপচয় হয়।

এফএও'র গবেষণায় দেখা গেছে, শস্যদানা মানে চাল, গম ও ডাল এসব উৎপাদন থেকে মানুষের প্লেট পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১৮ শতাংশ অপচয় হয়। ফল আর সবজির ক্ষেত্রে অপচয় হয় ১৭ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা এখন মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশে মাথাপিছু খাদ্য অপচয়ের যে হিসাব তা যথেষ্ট বেশি বলে মনে করেন গবেষকেরা।অধ্যাপক হাসান মনে করেন, বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তির কম ব্যবহার, সংরক্ষণের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকা, এবং বিকল্প সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকাই খাদ্য অপচয়ের প্রধান কারণ।

"কৃষক যদি তার উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ ঠিকমত না করতে পারে তাহলে তার ক্ষতি হবেই। ধরুন, কোল্ড স্টোরেজ না থাকার কারণে তাকে হয়তো শাক আজকেই বিক্রি করতে হবে, কিন্তু বিক্রি না হলে সেটা পুরো নষ্ট হয়ে গেল," তিনি বলেন।

খাদ্যের অপচয়ের সাথে আরো অনেক অপচয় এবং ক্ষতি হয়। এর মানে হচ্ছে উৎপাদনের পেছনে যে অর্থ লগ্নি করা হয়, যে পরিমাণ পানি ও জ্বালানি বিনিয়োগ করা হয়েছে, ফসল তোলা এবং পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ এই প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রম ও অর্থ এবং প্রাকৃতিক শক্তির অপচয় হওয়া।আর নষ্ট হওয়া খাবার জলবায়ু পরিবর্তনেও নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এর মানে হচ্ছে চাহিদা পূরণে বেশি বেশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যেতে হবে যা জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয়। আবার ভাগাড়ে ঠাঁই হওয়া ফেলে দেয়া খাবার পচে মিথেন গ্যাস তৈরি করে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ২০৭৫ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯৫০ কোটি। এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও খাদ্যের দরকার হবে। শুধুমাত্র অপচয় বন্ধ করেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকেরা।অধ্যাপক হাসান বলেন, 'ফুড লস' ঠেকাতে কৃষি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে পুরো চক্রটির কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।

তবে 'ফুড ওয়েস্ট' ঠেকাতে হলে বিশেষজ্ঞরা নানা রকম পরামর্শ দেন যাতে করে বাজার থেকে খাবার মানুষের পেটে যেতে পারে, ভাগাড়ে নয়।এজন্য আগেভাগে পরিকল্পনা করে কেনাকাটা, রান্না, এবং পরিবেশনের কাজ করলে অপচয় কমে আসবে।

এক্ষেত্রে কয়েকটি পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করে দেখতে পারেন:

* চাহিদার তুলনায় বেশি কেনাকাটা না করার চেষ্টা করুন। আপনার কী প্রয়োজন তার একটি তালিকা করে বাজারে যান, তাহলে বাড়তি অর্থব্যয় এবং অপচয় কম হবে।

* খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে অপচয় কমে আসবে। অনেকেই জানেন না যে সবজি এবং ফলমূল কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। যে কারণে তা দ্রুত পচে যায় বা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

* উদ্বৃত্ত খাবার সংরক্ষণের উপায় জেনে নিন।

* ফেলে দেয়ার বদলে বিকল্প ব্যবহারের চিন্তা করতে পারেন। যেমন ফল বা সবজির খোসা, বেচে যাওয়া খাবার এসব দিয়ে বাড়িতেই জৈব সার তৈরি করা যায়। সূত্র: বিবিসি


দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইলে একূল ওকূল দুকূল হারাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইলে একূল ওকূল দুকূল হারাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে অশান্তি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, এ মুহূর্তে কেউ কোনো অশান্তি তৈরি করতে চাইলে একূল ওকূল দুকূল হারাতে হবে। এটা তাদের মনে রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুন) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ আলোচনায় ৬ দফার পটভূমি, ইতিহাস ও ফলাফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় দফা দাবি আমাদের জন্য ছিল ম্যাগনাকার্টা। ৭০-এ যে নির্বাচন, তা ছিল ছয় দফার ভিত্তিতেই। যখনই ছয় দফা নিয়ে আলোচনা হতো, বাবা (শেখ মুজিব) বলতেন, ছয় দফা মানেই এক দফা; ‘স্বাধীনতা’।

এসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্বের বড় বড় দেশ অর্থনৈতিকভাবে হিমশিম খাচ্ছে। উন্নত দেশ ইংল্যান্ডে মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশ, আমেরিকায় যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ১ শতাংশের বেশি হতো না, সেখানে এখন ১০ শতাংশ। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে।

ইংল্যান্ডে যারা তিনবেলা খেতো, তারা একবেলা খাবার কমিয়ে দিয়েছে। তাদের সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহার, এক লিটারের বেশি ভোজ্যতেল না কেনার মতো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি ১৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে, সেসব দেশেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

তিনি বলেন, আমরা ভর্তুকি দিয়ে দ্রব্যমূল্য যতটুকু পারছি নিয়ন্ত্রণে রাখছি। আমাদের রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়নে তুলেছিলাম। আজ সেই রিজার্ভের টাকা ভেঙে ভেঙে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি ও স্বাস্থ্যের জন্য ভর্তুকি এবং সহযোগিতা দিচ্ছি। এভাবে কোনো দেশ করেনি। তারপরও যদি কেউ গোলমাল করার চেষ্টা করে, আর তাতে যদি দেশটা একেবারে স্থবির হয়ে যায়, সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে?

তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষ অনেক ভালো আছে। তারা যেন ভালো থাকে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি। সবাইকে বলছি, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। বিশ্বব্যাপী যে খাদ্যাভাব, মন্দা; সেখানে আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে, আমাদের ফসল ফলাতে হবে। নিজের খাবারের ব্যবস্থা নিজেরাই করবো। এটাই বাস্তবতা।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন তো বন্ধ হয়নি। আমরা প্রণোদনা দিয়েছি। ভর্তুকি দিয়ে গার্মন্টস শ্রমিকদের মোবাইলে বেতন দিয়েছি। মালিকদের হাতে তো দিইনি। আজ যদি তারা বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করেন, আর এতে যদি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো গার্মেন্টস কারখানাগুলোই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন তো আমও যাবে, ছালাও যাবে। বেতন আর বাড়বে না। তখন চাকরিই চলে যাবে। ঘরে ফিরে যেতে হবে। তখন কী করবে?

পোশাককর্মীদের আন্দোলনে উসকানি বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আন্দোলনে যে নেতারা উসকানি দিচ্ছেন, কাদের প্ররোচনায় এ উসকানি, সেটাও ভেবে দেখতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে আমরা গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করি। এখন আমরা (বাংলাদেশ) এ খাতে একটা ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, ভালো আছি। কিন্তু যারা গার্মেন্টস পণ্য কিনবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা তো কমে যাচ্ছে। তাদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে এখনো মানুষকে আমরা খাদ্য, ওষুধ ও ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছি। তারপরও যদি কেউ কোনো অশান্তি তৈরি করতে চায়, তাহলে কিন্তু একূল ওকূল দুকূল হারাবে। এটাও যেন সবাই মনে রাখে।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও কথায় দেশে অশান্তি তৈরি করলে নিজেরও ক্ষতি, দেশেরও ক্ষতি। উসকানি দিয়ে যারা পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামায় তারা তো টাকা পায়। শ্রমিক আর মালিক তো পায় না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ যুদ্ধ সহজে থামবে না মনে হয়। যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। জিনিসের দাম তো বাড়বেই। আরও কত বাড়বে ঠিক নেই। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার। কিন্তু আমরা কতটুকু ভর্তুকি দেবো? এজন্য সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। কোনো খাদ্য অপচয় যেন না হয়। প্রত্যেককেই সঞ্চয়ী হতে হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে একটু সচেতন থাকা দরকার। সীতাকুণ্ডে এরকম একটা ঘটনা (কেমিক্যাল কনটেইনার বিস্ফোরণ) ঘটলো, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ২৫ তারিখ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবো। নিজের অর্থায়নে এ সেতু করেছি।

তিনি হাসতে হাসতে দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, একজনও মাস্ক পরেনি। যারা মাস্ক পরেনি, তাদের ফাইন করা হবে।

আলোচনা সভায় ছয় দফার ওপর বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও দলটির শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ। এসময় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

Saturday, May 28, 2022

জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী


Delta Plan 2100 Sheikh Hasina 2

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, এ জন্য সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

রোববার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (২৮ মে) এক বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাণীতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২ পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য অকাতরে জীবন বিসর্জনকারী সব শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আজ সর্বাধিক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অনন্য অবদান বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং এ দেশকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ওই সব দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে যে গৌরব ও মর্যাদা লাভ করেছে, তা আমাদের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য পেশাদারিত্ব, সাহস, বীরত্ব ও দক্ষতারই অর্জিত ফসল।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় দেয়া তার ঐতিহাসিক ভাষণে বিশ্বের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তখন থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তিপ্রিয় ও বন্ধুপ্রতিম সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীন পরিচালিত সব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা এবং সব শান্তিরক্ষীর সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

Tuesday, May 24, 2022

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি মিয়ানমার
ইউএনএইচসিআর-এর হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্দি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে, যার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, এটি তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করছে।’ মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কথাকে সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্দি বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে রাজি হয়েছে মিয়ানামর সরকার। 

ইউএনএইচসিআর-এর হাইকমিশনার মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। সেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিয়ানমার সফরের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার সরকারকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

ফিলিপো গ্র্যান্দি বলেন, ‘মিয়ানমারের বর্তমান সরকার প্রত্যাবাসন শুরু করতে সম্মত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।’ মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম ও ভাষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে সরকার রোহিঙ্গাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুবিধা দিচ্ছে বলেও হাইকমিশনারকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১১ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার কারণে গভীর বনভূমি ও কক্সবাজারের উখিয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।’ রোহিঙ্গারা গাছ কাটার মাধ্যমে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

প্রতি বছর ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ভাসান চরেন রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব জুড়ে উদ্বাস্তু, রাষ্ট্রহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ইউএনএইচসিআরের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এবং ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাউ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ফিলিপ্পো গ্র্যান্দি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিপুল সংখ্যক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় সরকারের প্রশংসা করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান ইস্যু বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ২৫ জুন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ২৫ জুন

 

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ২৫ জুন 

আগামী ২৫ জুন যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (২৪ মে) পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং নামকরণের সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর গণভবন গেটে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

এসময় পদ্মা সেতুর নমাকরণ সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। 

তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা সেতুর দুটো সামারি (সার সংক্ষেপ) দিয়েছিলাম। একটা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সামারি, যেখানে তিনি ২৫ জুন তারিখ লিখে সই করেছেন। আরেকটি ছিল পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার। সেটিতে তিনি সই করেননি। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর নাম পদ্মা নদীর নামে হবে। এখানে কারও নাম থাকার দরকার নেই।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতু পারাপারে টোল নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১৭ মে সেতু বিভাগের উপসচিব আবুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মোটরসাইেকলের জন্য টোলের হার ১০০ টাকা; কার, জিপ ৭৫০ টাকা; পিকআপ ভ্যান ১ হাজার ২০০ টাকা; মাইক্রোবাস ১ হাজার ৩০০ টাকা; ছোট বাস (৩১ আসন বা তার কম) ১ হাজার ৪০০ টাকা; মাঝারি বাস (৩২ আসন বা তার বেশি) ২ হাজার টাকা; বড় বাস (৩ এক্সেল) ২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ছোট ট্রাকের জন্য (৫ টন পর্যন্ত) ১ হাজার ৬০০ টাকা; মাঝারি ট্রাক (৫ থেকে ৮ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ১০০ টাকা; মাঝারি ট্রাক (৮ থেকে ১১ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ৮০০ টাকা; বড় ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫ হাজার ৫০০ টাকা; ট্রেইলার (৪ এক্সেল পর্যন্ত) ৬ হাজার টাকা এবং ট্রেইলার (৪ এক্সেলের অধিক) ৬ হাজার টাকার সঙ্গে প্রতি এক্সেলের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা যুক্ত হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, টোলের এ হার পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের দিন থেকে কার্যকর হবে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতুর কাঠামো। এরপর পর একে একে ৪২টি পিলারে বসানো হয় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর।

Tuesday, May 17, 2022

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী


পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জণগণকে অধৈর্য না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ আহবান জানান। 

দেশের মানুষ পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে রাখতে চায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে নেত্রীকে আবারও অনুরোধ জানানো হবে। তবে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তা চান না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনের দিনগুলোতে সকল প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে, দেশের মানুষ তার সঙ্গে আছে, থাকবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে এমনটা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন  সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান। 

তিনি বলেন, আজ সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ চায় পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা হোক, আমিও সেই দাবি জাতীয় সংসদে করেছি। পদ্মা সেতুর নাম যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করা না হয়,  তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করা হবে। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক,  মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া,  জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাহজান খান, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 

আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।