Showing posts with label বিবিধ. Show all posts
Showing posts with label বিবিধ. Show all posts

Friday, September 17, 2021

বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে নেপালের আগ্রহ

বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে নেপালের আগ্রহ

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে নেপাল। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ডা. বানশিধর মিশ্র এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব ভবনে এ সাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে বানশিধর মিশ্র গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি আলোচনায় নেপালকে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর দুই-তৃতীয়াংশ পানি নেপাল থেকে আসে। জলবিদ্যুত্ খাতে ব্রাজিলের পর নেপাল বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ সম্ভাবনাময় দেশ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশিদের এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবিদ্যুত্ ও পণ্য বাণিজ্যে দুই দেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বলেন, বাংলাদেশে চাহিদার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয়। তুলনামূলক কম দামে বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি করতে পারে নেপাল।

বিপুলসংখ্যক নেপালি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে চিকিত্সাবিজ্ঞান পড়ছেন উল্লেখ করে দেশটিতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। রাষ্ট্রদূত বলেন, কাঠমাণ্ডু ছাড়া অন্য শহরে এ সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশিদের নেপাল ভ্রমণে মাল্টিপল ভিসার নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। বিবিআইএন মোটর ভেহিকল চুক্তি হলে এসব জটিলতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কলকাতা বন্দর ব্যবহারে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী নেপাল।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, এম এ মোমেন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

Tuesday, September 14, 2021

রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক আর নেই

রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক আর নেই


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক আর নেই। শিরোইল কাচা বাজার এলাকা নিবাসী হক মটরস  ও হোটেল হক ইনস স্বত্বাধিকারী  রাজশাহী শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও রাজশাহী পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি  আলহাজ্ব মোঃ এনামুল হক গতকাল ১৩ -৯-২১ ইং অনুমানিক রাত ১০ টাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মরহুমের জানাজার নামাজ আজ বাদ জোহর টিকাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হইবে। 

২১ নং ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ও মহানগর আওয়ামিলীগ সদস্য মোঃ তোজাম্মেল হক বাবলুর বড় ভাই। । তিনি স্ত্রী, একমাএ পুএ এনজামুল হক অমি, দুই মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Saturday, September 11, 2021

গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ- নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস

গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ- নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস


গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ আগামী ৭ অক্টোবর আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধির মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় এ প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়।

এতে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস বলে জানা গেছে। পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস নৌকার মাঝি নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দ বিরাজ করছে। এদিকে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাসকে নৌকার মনোনীত প্রার্থী করায় সোস্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

Monday, August 16, 2021

পর্যটন শিল্পে আশার আলো

পর্যটন শিল্পে আশার আলো

 

করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে আবারো খুলছে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো । এরফলে পর্যটকের পদচারণায় পুরনো রুপে দেখা যাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে চাঙ্গা হবে পর্যটন শিল্প। আর ঘুরে দাঁড়াবে দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি। প্রতি বছর এ খাত থেকেই দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগান হয় হাজার হাজার কোটি টাকা।

কক্সবাজার, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে যেন মায়াবী হাতছানি। পর্যটন মৌসুম ছাড়াও এসব এলাকায় দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ঘুরে বেড়ান সারা বছর। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, পাহাড়-পর্বত, ঝিরি-ঝর্ণা, লেক, নদী আর পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে আনন্দের পাশাপাশি অপরূপ প্রকৃতি অবলোকন করবে পর্যটকেরা। হোটেল মোটেল বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত পর্যটকদের স্বাগত জানাতে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ভ্রমণ পিয়াসুদের আনাগোনা। হোটেল মোটেলে শুরু হয়েছে আগাম বুকিং।

কক্সবাজার থেকে শামসুল হক শারেক জানান,
পর্যটন মানেই যেন কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সাগর পাহাড় আর দ্বীপে মহান আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টি পর্যটন নগরী কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ি, সোনাদিয়া, ইনানী ছাড়াও সাগর বক্ষে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন কক্সবাজারেই।

২০১২ সালে ইউনেস্কোর ‘সেভেন ওয়ান্ডারস অব নেচার’ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত আর ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন নিয়ে হৈ চৈ পড়েছিল। তখন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটনের অপরূপ লীলাভ‚মি কক্সবাজার ও সুন্দরবনের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায় সারাবিশ্বের পর্যটকদের। দেশি-বিদেশি পর্যটক বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের নামকরণ হয় পর্যটন নগরী। সমুদ্রের অথৈ নীল জলরাশির কোলঘেঁষে বিস্তীর্ণ উঁচু নিচু পাহাড়শৃঙ্গ সত্যিই অপরূপ। সাগর আর পাহাড়ের মাঝখানে ১২০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক কক্সবাজারকে যুক্ত করেছে বিশ্ব পর্যটনের সাথে। গত কয়েক বছরে সাগর পথে কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন ইউরোপের পর্যটকরা।

বর্হিবিশ্বে এখন কক্সবাজার দিয়েই বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি। কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে এক ডজন পাঁচ তারকা মানের হোটেলসহ চার শতাধিক হোটেল মোটেল। গড়ে ওঠে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টসহ পর্যটনকেন্দ্রীক অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর সাথ সম্পৃক্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপি খাতে পর্যটন শিল্পের অবদান ছিল ৮৫০.৭ বিলিয়ন টাকা। এ খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ২৪ লাখ ৩২ হাজার। একই বছর পর্যটন খাতে বিনিয়োগ এসেছে ৪৩ বিলিয়ন টাকা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে পরিস্থিতি ভালো থাকলে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। আর ৪ কোটি দেশীয় পর্যটক সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়ান।
পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারে তিনটি পর্যটন পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছে বর্তমান সরকার। প্রতি বছর এতে বাড়তি ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ তিনটি ট্যুরিজম পার্ক হলো- টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং মহেশখালীর সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক।
কক্সবাজারের পর্যটন খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কক্সবাজারের মহেশখালী, সোনাদিয়া, উখিয়ার ইনানী সৈকত, রামুর হিমছড়ি ও টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হয়। একসময় এখানে পর্যটন খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল মালয়েশিয়া, আরব আমিরাতের ধাবী গ্রæপ ও সউদী বিনিয়োগ কারীরা। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় থেমে যায় এসব বিনিয়োগের আশ্বাস।

এদিকে, পর্যটক আকর্ষণে সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করেছে। আগামী ২৯ আগষ্ট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক বিপ্লব সাধিত হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বহুল আকাঙ্খিত রেল যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। এতে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

এছাড়াও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেগা পরিকল্পনাকে ঘিরে বিদেশি পর্যটকরা আসা-যাওয়া করছেন কক্সবাজারে। উখিয়া-টেকনাফে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দেশি-বিদেশি ভিভিআইপিসহ হাজার হাজার পর্যটক প্রতি মাসেই কক্সবাজার ভ্রমণ করছেন।
করোনার মহামারিতে বন্ধ ছিল হোটেল-মোটেল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এ ফলে পাল্টে যায় পর্যটন শিল্পের সেই পরিচিত রূপ। শূন্য পড়েছিল শত শত হোটেল মোটেল এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছে শত শত কোটি টাকা। বেকার হয়েছে হাজার হাজার পর্যটন সংশ্লিষ্ট মানুষ।
সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে হোটেল মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে আবারো আশান্বিত হয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনকারী পর্যটন শিল্প আবার চাঙ্গা হবে। দেশি বিদেশি লাখো পর্যটকে আবার সরগরম হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, গত ১৭ মাস আগে করোনা প্রকোপ শুরু হয়। এর মধ্যে ১৩ মাস বন্ধ ছিল হোটেল মোটেল ও পর্যটন স্পট। এতে শুধু কক্সবাজারের পর্যটন খাতে ক্ষতি হয়েছে ১৫শ’ কোটি টাকা। তারা আশা করছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে চেষ্টা করবেন।
পাঁচ তারকা হোটেল সীগালের সিইও ইমরুল হাসান রুমী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে হোটেল মোটেল পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে, ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারী পর্যটকদের সচেতন হতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে টুরিস্ট পুলিশ সতর্ক ভ‚মিকা পালন করবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সরকার সার্বিক বিবেচনা করে ১৯ আগষ্ট থেকে পর্যটন এলাকার হোটেল মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

চট্টগ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম সেলিম জানান, ফের সরগরম হয়ে উঠছে চট্টগ্রামের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, সমুদ্র এবং উপত্যকায় ঘেরা প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা যাবে অন্য রকম আবহ। বর্ষণে শিক্ত সৈকত, পাহাড়, লেক, ঝরনা, ইকোপার্ক। হরেক ফুলের সমাহার পর্যটন স্পটগুলোতে। ১৯ আগস্ট থেকে বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার আগাম ঘোষণার পর পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। পর্যটন খাতে ফিরে আসছে প্রাণ চাঞ্চল্য। স্বস্থিতে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অতিথিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বন্দরনগরী ও জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তারকা হোটেলসহ হোটেল- মোটেলও প্রস্তুত হচ্ছে।
করোনায় বন্ধ স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। টানা লকডাউনে ঘরবন্দি শিশু-কিশোরেরা। নেট দুনিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে অনেকে। সন্তানদের একটু স্বস্তি দিতে অনেকে ছুটছেন প্রাকৃতিক পরিবেশে খোলামেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। নগরীর পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিদিন পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ছে। নানা বয়সের মানুষ সেখানে ঘুরে বেড়াতে আসছেন। সৈকতের পাশ ঘেঁষে সিটি আউটার রিং রোডও এখন অন্যতম বিনোদন স্পট। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত সড়কে দুই পাশে দিনভর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আনাগোনা। এক পাশে উত্তাল সাগর অন্যপাশে নগরীর সুউচ্চ ভবন। সড়ক থেকে দেখা যায় সাগরে বড় বড় জাহাজের সারিতে আলোর বন্যা।

নেভাল বীচ, খেঁজুর তলা, বাঁশবাড়িয়া সৈকতের পাশাপাশি সীতাকুন্ডের গুলিয়াখালী সৈকত এবং আনোয়ারার পারকি সৈকতেও পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। পতেঙ্গা সৈকতের অদূরে অভিজাত বোট ক্লাবও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। সেখানে রয়েছে তারকা মানের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কর্ণফুলীতে ছুটে চলা দেশি-বিদেশে জাহাজ দেখার সুযোগ। বোট ক্লাব প্রাঙ্গণে হরেক রাইডে চড়ার পাশাপাশি পাশের শাহ আমানত বিমান বন্দরে বিমান উঠা-নামা দেখার সুযোগও আছে। নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেকেও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি চলছে। সেখানে বাড়ছে পর্যটকের আগমন। পাশেই আছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

নগরীর সবচেয়ে বড় এবং দৃষ্টিনন্দন উম্মুক্ত স্থান সিআরবিতেও পর্যটক বাড়ছে। বর্ষায় সতেজ শত বছরের গাছ গাছালিসহ সেখানকার গাছে গাছে হরেক ফুলের সমাহার। নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্ক, ফিরিঙ্গি বাজারের নেভাল-২, কর্ণফুলী সেতু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পাহাড় ঘেরা বায়েজিদ লিঙ্ক রোডে স্বস্তিতে ঘুরে বেড়াতে যাচ্ছেন অনেকে। নগরীতে রয়েছে নেভাল মিউজিয়াম, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রি, কালুরঘাটে মিনি বাংলাদেশ। নগরীর বাটালি হিল, ডিসি হিল পার্ক, জিলাপির পাহাড়েও সময় কাটাতে ছুটছেন অনেকে।
সীতাকুন্ডের ইকোপার্ক, আদিনাথ পাহাড়, মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক, খইয়াছড়া ঝরনা, বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য হাজারিখিল ছাড়াও এই দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি ঝরনা এখন পর্যটক টানছে। বর্ষায় ঝরনাগুলো দারুণ সতেজ। বইছে পানির ঝরণা ধারা। ভাটিয়ারী লেককে ঘিরে গড়ে উঠা বিনোদন কেন্দ্র এখন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। সেখানে রয়েছে অসাধারণ প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য। ফকিটছড়ির চা বাগানে টানা বৃষ্টিতে নিরিবিলি পরিবেশে রাত্রী যাপনের মজাই আলাদা। দক্ষিণ চট্টগ্রামে আনোয়ারা, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, বোয়ালখালীর পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা বাড়ছে। পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার খুলে দেওয়ার পর বিয়ে শাদিসহ সামাজিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তখন পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে।

টুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনেই পর্যটন কেন্দ্র চালু রাখতে হবে।

বান্দরবান থেকে মো. সাদাত উল্লাহ জানান, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা নদী সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী। পাহাড়ে সবুজের মেলা ও বয়ে চলা পাহাড়ি ঝরণা। নৃতাত্তি¡ক ১১টি জাতিগোষ্ঠীর পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট মাচাং ঘরে বসবাস। জুম চাষ, দিন শেষে ঘরে ফেরা, সন্ধ্যায় পাখির কলকাকলি, বৈশাখের উৎসব, সব মিলিয়ে রূপকথার কোনো কল্পকাহিনী মনে হলেও এর সবই রয়েছে বান্দরবানে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যকটদের কাছে বান্দরবান একটি অতি প্রিয় গন্তব্য হতে শুরু করেছে। সবুজের সমারোহে, পাহাড়ে নিস্তব্ধতায়, প্রিয়জনদের নিয়ে একান্ত সান্নিধ্যে কয়েকটা দিন স্মরণীয় করতে অনেকেই অতিথি হন বান্দরবানে। অনেকের মতে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নান্দনিক পর্যটন স্পটের নাম পার্বত্য বান্দরবান জেলা।

কিন্তু কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাসে পর্যটন ব্যবসায় ব্যাপক ধস নেমেছে। পাহাড়ে নেই কোন কোলাহল। থেমে গেছে হৈ হুল্লা আর আনন্দ উল্লাস। প্রতি বছর ঈদ, সরকারি ছুটিসহ প্রতিনিয়ত পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও গত দুই বছর পাহাড়ে ভিন্ন চিত্র। নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা, এতে করে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। পর্যটন স্পট দেয়ার ঘোষণায় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রকৃতির নির্মল স্বাদ পেতে বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন বান্দরবানবাসী। পাহাড়-পর্বত, ঝিরি-ঝর্ণা, নদী আর পর্যটনকেন্দ্র গুলো ঘুরে আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতির অপরূপ রূপ অবলোকন করবে পর্যটকেরা।

পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত শ্রমিকরা জানান, ৪ মাসের ওপর হয়ে গেল, শ্রমিকদের গাড়ির চাকা বন্ধ রয়েছে। গাড়িগুলোর মালিক ও শ্রমিকরা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল এবং তাদের মাধ্যমে আয় রোজগার। গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কষ্টে জীবন-যাপন করতে হয়েছে অনেককে।
বান্দরবান আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে প্রথম থেকে এ পর্যন্ত হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক-কর্মচারীরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। মালিকদের লোকসান গুনতে হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিধি নিষেধ শিথিলের কারণে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রাঙ্গামাটি থেকে সৈয়দ মাহবুব আহমদ জানান, পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার ঘোষণায় ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা রাঙ্গামাটিতেও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাঝে প্রভাব পড়েছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই শহরের হোটেল মোটেল সরকারি গেস্ট-হাউজ রেস্টহাউজগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। শুরু হয়েছে আগাম বুকিং ও যোগাযোগ। বন জঙ্গল আর হ্রদ বেষ্টিত পাহাড়ের আনাচে কানাচে গড়ে উঠা অসংখ্য পাহাড়ি ঢং এ নির্মিত খাবার ও বিশ্রামের ঘরগুলোও নব সাজে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মানসে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবারের ছুটিতে রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকায় কম করে হলেও ২০ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হ্রদে বেড়ানোর জন্য ছোট বড় নানান ধরনের জলযানও নবজাগরণে সরব হয়ে উঠেছে।

রাঙ্গামটি পার্বত্য শহর কিন্তু দেশের ভেতরে ভিন্ন আকারের একটি ব্যতিক্রমী শহর। উচু নিচু সর্পিল আকারের রাস্তায় এখানে কোন রিকশা কিংবা লোকাল পরিবহন বাস বা টেম্পো গাড়ির প্রচলন নাই। শহরে ও আশপাশের এলাকায় চলাচলের মাধ্যম হিসেবে সিএনজি চালিত গাড়িই একমাত্র ভরসা। এতে করে এলাকা ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকদের এ ব্যবস্থা একরকম আনুক‚ল্যও এনে দিয়ে থাকে।

ছোট শহর হলেও রাঙ্গামাটি পর্যটকদের জন্য বেশ মজার এক উপভোগ্য স্থান। দেশের আর কোথাও পাহাড় বন জঙ্গল ও বৃহৎ হ্রদ বেষ্টিত এতো মনোরম সৌন্দর্যের চোখ জুড়ানো স্থান মেলা সম্ভব নয়। এখানে সুবলং নামক স্থান পরিদর্শনে গেলে স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্ট হ্রদের দুধারে বিশাল আকারের মাথা উঁচু করে পাহাড়রাজি যেনো পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। পর্যটকদের আকর্ষণ ও পেইড মেহমানদারি করার জন্য পাহাড়ের কিছুদূর পর পর রয়েছে সুসজ্জিত বিশ্রামাগার ও খাবারের কুঁড়ে ঘর। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শহরের ভেদভেদি হ্রদের কোলজুড়ে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত মোটেল আরন্যক ও তার পাশাপাশি দর্শনীয়দের উপভোগের জন্য হ্যাপী আইল্যান্ড, শহরের অদূরে কাপ্তাই পথে বালুখালি পাহাড়ের দুইধার ঘেঁষে রযেছে খাবার ঘর ও বিশ্রামাগার চাংপাং, পেদা টিং টিং, টুক টুক ইকো ভেলেজ, বড়গাং,বেড়ান্যা।

এছাড়া নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদু রবের নজর কাড়ানো সমাধি। আরও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে শহরের পুলিশ লাইনে রয়েছে পলওয়েল পর্যটন কেন্দ্র ও ভেদভেদির সুখি নীল গন্জ। এছাড়া তবলছড়ি বাজার পেরিয়ে রয়েছে সেই ঐতিহ্যময়ী ঝুলন্ত ব্রীজ যা অনায়াসে পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। চট্টগ্রাম শহর হতে দেড় দু-ঘন্টার যাত্রায় সহজে রাঙ্গামটি পর্যটন শহর আসা যায়। যাতায়াতের জন্য বিলাসী পাহাড়িকা নামের বিরতিহীন বাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

খাগড়াছড়ি থেকে ইব্রাহীম শেখ জানান, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে খাগড়াছড়িতে অসাধারণ নয়নাভিরাম অনেক দৃশ্য। এগুলো এখন খাগড়াছড়ি ভ্রমণকারীদের জন্য বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে, মাইনীমুখ উপত্যাকার বিস্তীর্ণ সমতল ভ‚মি ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্রতা। মহালছড়ি, দিঘীনালা, পানছড়ি, রামগড়, ল²ীছড়ি, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গা যেদিকেই নজর যায় শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ।

খাগড়াছড়ির উত্তরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান পূর্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্য ও ত্রিপুরা রাজ্য আর পশ্চিমে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। এখানে যেসব প্রাকৃতিক ঝরণা, টিলা ও পাহাড় গুলো পর্যটকদের নজর কাড়ে তার মধ্যে রয়েছে আলুটিলা পাহাড়, বিছাং ঝর্ণা, মাতায় পুকুর,পানছড়ি অরন্য কুটির, তৈদুছড়া ঝর্ণা, রাবার ড্যাম ও সাজেক ভ্যালী।

সাজেক ভ্যালী রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও যাতায়াতের সহজ পথ হল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়ক দিয়ে। তাই সাজেক ভ্যালী ভ্রমণকারীদের জন্য খাগড়াছড়ি দিয়ে ভ্রমণ করাই সহজ। হোটেল মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণায় খাগড়াছড়ি পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ ভাব দেখা গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন দীর্ঘদিন পরে পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ায় খাগড়াছড়িতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণ করবেন। এতে চাঙ্গা হবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি।

Thursday, August 5, 2021

টিকার প্রচারে নামবে আওয়ামী লীগ

টিকার প্রচারে নামবে আওয়ামী লীগ

 

সারা দেশের মানুষকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ক্যাম্পেইন চালাবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ৭ থেকে ১২ আগস্ট সারা দেশে গণটিকা দেওয়া হবে। গতকাল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকবৃন্দের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ক্যাম্পেইন সফল করতে ও আগস্টের দলীয় নানা কর্মসূচি সমন্বয় করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সব প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে নির্দিষ্ট বয়সসীমার ওপরে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।  আগামী ৭ থেকে ১৪ আগস্ট সারা দেশে গণ টিকাদানের কর্মসূচি পালিত হবে। এই কার্যক্রম সফল করার জন্য দেশে ১৪ হাজার টিকা কেন্দ্রে ১ কোটি মানুষকে টিকা প্রদান করা হবে। আমাদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে টিকা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এই বছরের মধ্যে ১০ কোটি লোককে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।

 

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, সরকারের এত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নির্জলা মিথ্যাচার করছে। তারা সরকারের কার্যক্রম দেখে না। মানুষের পাশে থাকে না। তিনি বলেন,  আগস্ট মাস এলেই তাদের গাত্রদাহ আরও বাড়ে। তারা ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট নরপিশাচ খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হননের পাঁয়তারা করে। হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। জাতি দীর্ঘ ২১ বছর বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। আজকে অনেকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর আমরা বিচার চাইতে পারিনি।

সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক,  আবদুর রহমান,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ,  ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস,  সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, August 1, 2021

দেশে বিনিয়োগে সব ধরনের সুবিধা দেবে সরকার

দেশে বিনিয়োগে সব ধরনের সুবিধা দেবে সরকার

 

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা সহজে কোম্পানি গঠন করতে পারেন। এছাড়া দেশে বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সুবিধা মিলবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস শহরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আয়োজিত রোড শো এর ৩য় সেশনে এসব কথা বলেন তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। দেশের উন্নয়নের গল্প তুলে ধরতে প্রবাসীদের ব্র্যান্ডিং করার আহ্বান জানান সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা দেশের বিমানবন্দরে ভোগান্তি কমাতে তাদের জন্য আলাদা গেট তৈরির অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

সালমান এফ রহমান 'আমি মনে করি প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি নতুন বাংলাদেশ। ১০ বছর আগেও কল্পনা করা যেত না বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু এখন তা বাস্তব।শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের ফলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশের বিদ্যুৎ খাতের আমুল পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে।'

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নয়, দেশটির অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। দেশের পানি ও পয়নিষ্কাশন খাতের উন্নয়নে প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান।

Thursday, July 22, 2021

ঈদে দুই সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

ঈদে দুই সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

 

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বুধবার সেনাবাহিনী প্রধান পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি রিজিয়নের ধূপশীল আর্মি ক্যাম্প ও বান্দরবান রিজিয়নের রুমা জোন পরিদর্শন করেন।"

সেনাপ্রধান ধূপশীল আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন।

পরিদর্শনকালে জেনারেল শফিউদ্দিন দুই ক্যাম্পের সব সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা এবং কুশল বিনিময় করেন।

আইএসপিআর জানায়, "এসময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট চলমান সংকট মোকাবিলায় সকল পদবীর সেনাসদস্যদেরকে সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে পালনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।"

পরিদর্শনকালে তিনি উভয় ক্যাম্পে গাছের চারা রোপণ করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

Monday, March 8, 2021

তৃণমূলের এক কোটি নারীর ক্ষমতায়ন হবে

তৃণমূলের এক কোটি নারীর ক্ষমতায়ন হবে


‘বঙ্গমাতা পদক’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পদকটি দেওয়া হবে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের নামে। এই উদ্যোগকে মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। আগামী ৮ আগস্ট বঙ্গমাতার জন্মদিনে এই পদক চালু হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ফাতিমা তুজ জোহরা।

 

কালের কণ্ঠ : তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে আপনার মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : তৃণমূলে নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার ১০৫ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে জেলা পর্যায়ে।

 

কালের কণ্ঠ : নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মন্ত্রণালয় কী করছে?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ব্র্যান্ডিং করতে জয়িতা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য বাজারজাত করছেন। ২৮ হাজার নারী উদ্যোক্তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : নারীর ক্ষমতায়নে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে কি না? এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কী?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : নারীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের কার্যক্রম চালু করেছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে এক কোটি নারীকে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা হবে। ৬৪টি জেলায় ৫৪ হাজার নারীকে এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : নারীদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও আর্থিক-সামাজিক ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে আছে। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : মূল কারণ হলো শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসরতা। নারীশিক্ষার হার কম ছিল। এখন বাড়ছে। তবে এখানে শুধু সরকার নয়, সবার ঐক্যবদ্ধ অশংগ্রহণ জরুরি। সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ কী?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে। ৪৭টি সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল’ ভুক্তভোগীদের সহায়তা করছে। ‘১০৯’ ন্যাশনাল হেল্পলাইনে ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ নেওয়া হয়। অসহায়-নির্যাতিত নারীদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

 

কালের কণ্ঠ : নারীদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ উদ্যোগ কী?

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা : দুই লাখ ৫৬ হাজার নারীর প্রশিক্ষণের জন্য গত মাসে একনেকে প্রকল্প পেশ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ফুড কর্নার, সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টার এবং বিউটি পার্লার নির্মাণ করা হবে। সব জেলা-উপজেলায় নারীদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র করা হবে।

Thursday, November 12, 2020

রাজশাহীতে এবার রোপ আমন ধানে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা

রাজশাহীতে এবার রোপ আমন ধানে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা


রাজশাহীতে এবার রোপ আমন ধানে কৃষকের লাভের সম্ভাবনা

মো: আমিনুল ইসলাম (বনি): চলতি মৌসুমে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের আবাদকৃত ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত। বর্তমান বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকরা বেশ আমেজেই আছেন। এ বছর সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। এ জন্য ধানের কাঙ্খিত উৎপাদন হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। পবা উপজেলার কৃষক সোনারূল ইসলাম , বারিন্দার হুমায়ন কবির ও বড়রনাইল গ্রামের কৃষক মমিনুর রহমান জানান, ধানে কীটনাশক বেশি ব্যবহার করার কারণে এবার উৎপাদন খরচ একটু বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ধান বেশি হতে পারে বলে বলছেন কৃষকরা।বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ফলে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে এবং এবারে লাভের আশাও করছেন কৃষকরা। এছাড়াও চলতি মৌসুমে মাঠ থেকে ধান কাঁটা ও মাড়াই এর জন্য শ্রমিকদের বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ধান দিতে হবে। এসব খরচ বাদ দিলে দেখা যাবে কিছু লাভ থাকবে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৯ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে অর্থাৎ ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কৃষক রাজু আহমেদ জানান,সেচ নির্ভর প্রাকৃতিক বৃষ্টিতেই এবার আমনের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে পাচঁ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলেন তিনি। এখন ধান কাটা শুরু করেছেন। বিঘাা প্রতি ফলন ১০ থেকে ১২ মণ হতে পারে। তবে ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় পুষিয়ে যাবে। আর সামনে যদি দাম কমে যায় তাহলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করছেন তিনি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে ছালমার তথ্য মতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের বাম্পার ফলনের স¤ভবনা রয়েছে। তার মতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর হতে ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন, বিতরন, সুষম সারের ব্যবহার, সেচ নির্ভর রোপা আমনে আবহাওয়ার পানি পর্যাপ্ত থাকায় ফলন ভালো হওয়ার এবারে কৃষকেরা বেশী লাভের আশা করছেন । এরই মধ্যে ১৫ শতাংশ রোপা আমন ধান কাটা শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আমন ধান কাটা শেষ হবে এমনটায় মনে করছেন সংশিষ্টরা।


Tuesday, November 10, 2020

প্রাণের বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পাল্পিং হচ্ছে কৃষি পণ্যের কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার লোকের

প্রাণের বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পাল্পিং হচ্ছে কৃষি পণ্যের কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার লোকের


 

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৭ সালে রাজশাহী গোদাগাড়ীর আমানতপুর ১০২ বিঘা জমির উপর বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলে দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ‘প্রাণ গ্রুপের অন্যতম উদ্দেশ্য কৃষি পণ্যের সম্প্রসারণ ও কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। গোদাগাড়ীতে বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য রাজশাহী অ লের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল কোন ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তারা যেন স্বল্প পরিবহন খরচে বিক্রি করতে পারেন। এরই মধ্যে বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্বল্প পরিসরে আম, টমেটো, পেয়ারা ও জলপাই সংগ্রহের পাশাপাশি কমপোস্ট সার উৎপাদন হচ্ছে। এর সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। কেননা এই কর্মকান্ডের ফলে কৃষকরা কারখানায় পণ্য সরবরাহ শুরু করেছেন’। মঙ্গলবার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আমানতপুরে বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল এ কথা বলেন।  প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মৌসুমভেদে এখন আম, টমেটো, জলপাই, পেয়ারাসহ কয়েকটি পণ্য সংগ্রহ ও পাল্পিং হচ্ছে। শিগগিরি তরমুজ, আনারস, শসা, অ্যালোভেরার পাল্পিং শুরু হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আগামীতে হিমায়িত খাদ্য (ফ্রোজেন ফুডস), নুডুলসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ শিল্প গ্রুপের। কারখানা পুরোদমে শুরু হলে চার থেকে পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে, যার ৯৫ শতাংশ হবে স্থানীয়। কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, ‘প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা এরই মধ্যে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। যদি গ্যাস সংযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাই তবে শিগগিরি হিমায়িত খাদ্য, নুডুলস উৎপাদন হবে এবং এগুলো বিদেশে রপ্তানি করা হবে। বর্তমানে কারখানায় মৌসুম ভেদে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করছে। নতুন প্লান্ট চালু করা গেলে স্থানীয়দের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে’। এখানে যদি গ্যাস সংযোগসহ বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে শুধু প্রাণ-আরএফএল নয়; আরও অনেক কোম্পানি কারখানা স্থাপনের আগ্রহ দেখাবে। এই বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দরকার। এর ফলে এ অ লে কর্মসংস্থানসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে’। বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটা সময় দাম কম হওয়ার কারণে জমিতেই কৃষকের টমেটো নষ্ট হয়ে যেত। ২০১৮ সালের পর থেকে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। কৃষকরা এখন প্রকৃত দামে টমেটো বিক্রি করছে এবং এরই মধ্যে এই অ লে টমেটোর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কারখানায় তরমুজ, আনারস, শসা, অ্যালোভেরার পাল্পিং করার জন্য পরীক্ষামূলক কাজ করেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতারা যেন উৎকৃষ্ট মানের পণ্য পায় সেজন্য আমরা পণ্যের কাঁচামালকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারখানায় অত্যাধুনিক মেশিনে সম্পূর্ণ অ্যাসেপটিক পদ্ধতিতে পাল্পিং করা হয়। এখানে বর্জ্য দুটি অংশ বিভক্ত হয়ে খোসা থেকে জৈব সার ও আটি থেকে জ্বালানি তৈরি হওয়ায় কারখানাটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। কারখানার তরল বর্জ্যরে জন্য বর্তমানে একটি ইটিপি রয়েছে’। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ) তৌহিদুজ্জামান, ডেপুটি ম্যানেজার মাকছুদ-উল-ইসলাম জোয়াদ্দারসহ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকরা ইটিপিসহ বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।