Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Friday, November 15, 2019

ভাঙ্গনের সুর এলডিপিতে, মির্জা ফখরুলের দ্বারস্থ অলি আহমেদ!

ভাঙ্গনের সুর এলডিপিতে, মির্জা ফখরুলের দ্বারস্থ অলি আহমেদ!



নিউজ ডেস্ক : গত ৭ মাস ধরে দলের কোন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত না থাকার অভিযোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নতুন কমিটিতে জায়গা পাননি সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। আর তাই রাগ করে শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ এলডিপির বেশ কয়েকজন নেতা খুব শিগগির বিএনপিতে যোগ দেবেন বলে গুঞ্জন চাউর হয়েছে। সেলিম দল থেকে বের হয়ে গেলে এলডিপি ভাঙনের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে সেলিম সহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের বিএনপিতে যোগদান ঠেকাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এলডিপি। সেলিমদের দলে না জায়গা দিতে এরই মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে অনুরোধ করে চিঠিও লিখেছেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। দলের ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রয়োজনে সব দরজার কড়া নাড়তেও রাজি আছেন অলি। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এলডিপির এমন রাজনৈতিক দুর্দশার বিষয়ে জানা গেছে।
এলডিপির একটি সূত্র বলছে, দলে অনিয়মিত হওয়ায়, নিয়মিত মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি এবং জামায়াত প্রসঙ্গে অলির সাথে মতবিরোধের জেরে এলডিপির কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন না সেলিম। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তথা জামায়াতের মতো ঘৃণিত রাজনৈতিক দলের সাথে আঁতাত করায় অলির উপর চরম ক্ষিপ্ত হন সেলিম সহ দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা। তারা সন্দেহ করেন যে, অলি জামায়াতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তাদের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা করছেন। জামায়াতকে বাদ দিতে অলিকে একাধিকবার অনুরোধ করলে সেলিমদের সাথে দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দলে অনুপস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে সেলিমদের এলডিপির নতুন কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি।
সূত্রটি এও বলছে, এখন সেলিম ও অন্যান্য নেতারা যখন এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যেতে চাচ্ছেন, ঠিক তখনই টনক নড়ে অলির। কারণ অলি জানেন, এলডিপিতে সেলিমদের অনেক অনুসারী রয়েছেন। সুতরাং সেলিম চলে গেলে জলের স্রোতের মতো দলটির কর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করবেন। আর এটি হলে এলডিপি শুধু কাগজে কলমে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। তাই এলডিপির ভাঙ্গন রোধ করতে এবং সেলিমদের বুঝিয়ে দলে রাখতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অলি। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে চিঠিও দিয়েছেন, যেন এলডিপির কোন নেতাকে বিএনপিতে স্থান না দেয়া হয়।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন দেখার বিষয় হলো, এলডিপির ভাঙ্গন রোধে বিএনপি কি ধরণের সহায়তা করবে। নাকি জামায়াতকে বাগিয়ে নেয়ার শাস্তি হিসেবে অলিকে শায়েস্তা করবে বিএনপি। তবে অনেকেই মনে করছেন, বড় অঙ্কের বিনিময়ে অলির এলডিপির ভাঙ্গন রোধ করতে সহায়তা করতে পারে বিএনপি।

Monday, September 9, 2019

কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্যে বাংলাদেশ

কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্যে বাংলাদেশ


 
কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম।
বর্তমান সরকারের পরপর দুই মেয়াদে চার দফায় সারের দাম কমানো হয়। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেচের পানির ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয় এবং সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষকের মাঝে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। যুগান্তকারী এসব পদক্ষেপের ফলে কৃষিতে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য।
সরকার কৃষকদের সম্ভাব্য সব রকম উপকরণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবর্তিত কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দেশে ও বিদেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের অনুসরণে ভারত সরকার কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৩৫টি জেলায় ২৫ শতাংশ ভর্তুকিতে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টরসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আউশে প্রণোদনা প্যাকেজও অব্যাহত আছে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ই-কৃষি খুলে দিয়েছে আরেক সম্ভাবনার জানালা। কৃষি তথ্য সার্ভিস দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন করেছে। এছাড়া ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ইনফো-সরকার ২৫৪টি উপজেলার ২৫৪টি আইপিএম/ আইসিএম কৃষক ক্লাবকে এআইসিসিতে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষি তথ্যকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনলাইনে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে মুঠোফোনের জোয়ারে ভাসছে এদেশ। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।  কৃষি তথ্য সার্ভিসের ১৬১২৩ নম্বরে যে কোনো মোবাইল থেকে ফোন করে নামমাত্র খরচে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।
এক সময় বলা হতো ‘দুধে ভাতে বাঙালি’ কিংবা বলা হতো ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। বর্তমান সরকার তার সুপ্রসারিত কৃষি নীতিতে শুধু দুধে ভাতে বা মাছে ভাতে সীমিত নয় পুষ্টিতে বাঙালি হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত হতে চায়। পরিশেষে বলতেই হয়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যত অর্জন আছে, তার মধ্যে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো। এটা বিশ্বের যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণও বটে।
কৃষিতে বাংলাদেশের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনঃ
(১) বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে
(২) বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়
(৩) মাছ উৎপাদনে চতুর্থ বাংলাদেশ
(৪) ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ
(৫) আম উৎপাদনে সপ্তম বাংলাদেশ
(৬) আলু উৎপাদনে শীর্ষ দশ দেশের কাতারে বাংলাদেশ
(৭) ফসলের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা মোট ১৩টি প্রতিকূল পরিবেশে সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন।

Sunday, September 1, 2019

সিন্ডিকেটেই নাজেহাল বিএনপি, রাজপথে ফেরাটা বড় চ্যালেঞ্জ!

সিন্ডিকেটেই নাজেহাল বিএনপি, রাজপথে ফেরাটা বড় চ্যালেঞ্জ!



নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিজেদের দাবি মানাতে বাধ্য করতে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চায় বিএনপি। তবে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, বিভক্তি ও অনাস্থার সংকট কাটিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে দলটি রাজপথে কবে নাগাদ নামতে পারবে, সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির জন্য।
তবে এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি। একাধিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও দলকে শক্তিশালী করতে তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশ পালনে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তাদের এই তৎপরতা কতদিন থাকবে, সেটি নিয়েও সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে নেতৃবৃন্দের মনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা গেলে বিএনপি শক্তিশালী হতে পারে। কারণ স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবে বিএনপির নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজনীতিতে শক্তিহীন দলে পরিণত হচ্ছে বিএনপি। এছাড়া বিএনপির বড় সমস্যা হলো সিন্ডিকেট বা বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা। তাই বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে হবে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে জনপ্রিয়তা থাকার পরও বিএনপি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না। তাই সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে দল পুনর্গঠনের কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল- সকল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকট। বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের কমিটির যেমন বেহাল অবস্থা তেমনই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিরও নাজুক অবস্থা। বর্তমানে এই কমিটির অবস্থা বড়ই নাজুক। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে দলটির সিদ্ধান্তহীনতার কারণে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে দলের কয়েকজন প্রবীণ নেতা অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেন, ১৯ জন স্থায়ী কমিটির সদস্যের মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৪ জন অসুস্থ। তার স্থলে মাত্র দু’জনকে নতুন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির অবশিষ্ট পদ এবং ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর শূন্যপদগুলো কেন দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে না?
তারা বলেন, দলে অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতা আছেন। তারা দলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সাথে সম্পৃক্ত। অথচ তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় অনেকে এখন অভিমানে অনেকটা চুপচাপ আছেন বা নিষ্ক্রিয়। অথচ তাদেরকে দলের যথাযথ পদে জায়গা করে দিলে দলের কর্মকাণ্ড অনেক গতিশীল হবে। নেতাকর্মীরাও তাদেরকে পাশে পেলে আরও উজ্জীবিত হবে।
সভাপতি প্রার্থী হাফিজুরকে বিজয়ী করতে মরিয়া খোকন চক্র, ছাত্রদলে অসন্তোষ!

সভাপতি প্রার্থী হাফিজুরকে বিজয়ী করতে মরিয়া খোকন চক্র, ছাত্রদলে অসন্তোষ!


  নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২৭ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে যাচ্ছে বিএনপি। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কাউন্সিল হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই কাউন্সিলকে ঘিরে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মাঝে আনন্দের পাশাপাশি হতাশাও বিরাজ করছে। স্বজনপ্রীতির কাছে যোগ্যতা ও মেধার পরাজয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের পদপত্যাশীরা।
সূত্র বলছে, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে এই কাউন্সিলকে ঘিরে সরব হয়ে উঠেছেন দলটির কিছু সুবিধাবাদী সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
এই কাউন্সিল উপলক্ষে ভোট প্রার্থনায় প্রার্থীরা রীতিমত উদয়াস্ত এক করে ফেলছেন। প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নেতারা ফোন, এসএমএস বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। কাউন্সিল উপলক্ষে এত পরিশ্রম করেও সুফল পাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।
জানা গেছে, দলের সাবেক প্রভাবশালী সিনিয়র নেতারা অঘোষিত কয়েকটি প্যানেল তৈরি করেছেন। এই প্যানেলের পক্ষে তারা ভোট চাচ্ছেন। কোন প্রার্থী কোন ‘বড় ভাই’ এর লোক তা নিয়ে দলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমানকে বিজয়ী করতে সিনিয়র নেতা খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীরা জোট বেঁধেছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে। হাফিজুরকে বিজয়ী করতে দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট ভোটারদের ফোনে নির্দেশনা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় ছাত্রদলের কাউন্সিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক প্রার্থী।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, দলের অভ্যন্তরে একটি সিন্ডিকেট হাফিজুর রহমানকে বিজয়ী করার জন্য গোপন মিশনে নেমেছে। তারা হাফিজুরকে ভোট দিতে ভোটারদের প্ররোচিত করছে বলেও জানতে পেরেছি। পছন্দের প্রার্থীদের জেতানোর প্রচেষ্টা থাকলে কাউন্সিল আয়োজন করার কোনো মানেই হয় না। সিনিয়র নেতাদের এমন অপচেষ্টার বিষয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে জানানো হলেও তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের রুখে দেয়া হবে।

Thursday, August 29, 2019

তারেককে একহাত নিলেন কাদের সিদ্দিকী!

তারেককে একহাত নিলেন কাদের সিদ্দিকী!


নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে আসা নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এবার তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের মতো দুর্নীতিবাজ নেতার রাজনীতি করা রাজনীতিবিদ হিসেবে লজ্জার।
সোমবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) এ কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়া জাতির একজন অন্যতম নেতা, কিন্তু তারেক রহমান নয়। গত নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে চলে যাওয়ায় রাজনীতিতে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তারেক রহমানকে নেতা বানানোর জন্য আমি কখনো রাজনীতি করি নাই, জীবনেও করবো না।
এদিকে একই সভায় তিনি কামাল হোসেনের গুণগানও করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছি, কিন্তু ড. কামাল হোসেনের ভালোবাসা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করি নাই। কোনো দিন করবো না। ড. কামাল হোসেন যেভাবে চান, আমিও সেভাবে চাই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হোক।
তিনি বলেন, আমরা কোনো মতেই বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়তে কাজ করি নাই। আমরা ঐক্যফ্রন্ট করেছিলাম ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। কিন্তু যেকোনো ভাবেই হোক নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার সময় থেকেই দেখা গেল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল নেতৃত্ব বিএনপির হাতে চলে গেছে। বিএনপি যেখানে যাবে সেখানে অধঃপতন নেমে আসবে।
এ সময় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বলেন, আমি বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ওপর স্মরণ সভায় আপনিও আসেন। বললেন, ভাই আমার কালকে তিনটা প্রোগ্রাম, আমি তো আসতে পারবো না। বিএনপি নেতারা শুধু প্রোগ্রামই করে যাবেন কোনো লাভ হবে না।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি বিএনপির এই রকম বিতর্ক থাকে, বিএনপির মধ্যে যদি এমন দ্বন্দ্ব থাকে তাহলে বিএনপি রাজনীতি করতে পারবে না। তাদের রাজনীতি করা উচিৎও না। যত সমস্যা তারেক রহমানের। তিনি কী এমন নেতা হয়েছেন যে জাতির জনককে অস্বীকার করিয়ে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখবেন- আমি বুঝি না। বিএনপি একটি মাত্র দল বাংলাদেশে এ সত্য কথা নয়। বিএনপিকে জিইয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ।
তিনি এও বলেন, তারেক রহমানের বোঝা উচিৎ- তিনি রাজনীতিবিদ নন। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদের সন্তান মাত্র। ফলে তার রাজনীতিটা শেখা উচিৎ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান প্রমুখ।

Monday, August 26, 2019

প্লট আবেদনের চিঠি ফাঁস হওয়ায় নাখোশ রুমিন ফারহানা, বলছেন ষড়যন্ত্র!

প্লট আবেদনের চিঠি ফাঁস হওয়ায় নাখোশ রুমিন ফারহানা, বলছেন ষড়যন্ত্র!



নিউজ ডেস্ক: সরকার ও সংসদকে ‘অবৈধ’ বললেও সংসদ সদস্য হিসেবে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত আলোচিত এই নেত্রী তার আবেদনের চিঠি ফাঁস হওয়ায় নাখোশ হয়েছেন।
তথ্যমতে, গত ৩ আগস্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন রুমিন ফারহানা। মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জানানো যাইতেছে যে, ঢাকাস্থ পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ (দশ) কাঠা প্লট-এর প্রয়োজন।…ঢাকা শহরে আমার কোনো জায়গা/ফ্ল্যাট, জমি নাই। ওকালতি ছাড়া আমার আর কোনো ব্যবসা/পেশা নাই। আমার নামে ১০ (দশ) কাঠা প্লট বরাদ্দের জন্য সুব্যবস্থা করে দিতে আপনার মর্জি হয়।…এমতাবস্থায় আপনার নিকট আমার আবেদন, আমার নামে দশ (১০) কাঠা প্লট বরাদ্দ করলে আমি আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’
সরকারের কাছে আবেদন করার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, আমি একজন সাংসদ হয়ে এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখি বলেই আবেদন করেছি।
এদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে দেয়া চিঠিতে রুমিন ফারহানা ঢাকায় কোনো জায়গা বা প্লট নেই বলে দাবি করলেও সে তথ্য সঠিক নয়। রুমিন ফারহানার বাবার রাজনৈতিক সহকর্মী ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বলেছেন, রুমিন ফারহানার লালমাটিয়ায় ৩ কাঠার প্লট আছে।
জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় রুমিন ফারহানা নিজেই স্বীকার করেছেন, তার ১৮৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে। ওই ফ্ল্যাট মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।
এমন প্রেক্ষাপটে কোনো তর্কে না গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা মোটেই প্রীতিকর ঘটনা নয়। যদিও রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্য মানতে রাজি নয় কেউই।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে টকশোতে সরব বিএনপির কেন্দ্রীয় একজন নেত্রী বলেন, আমাদের যেহেতু একটা স্ট্যান্ড আছে যে, সরকার ও সংসদ অবৈধ বলছি, তিনি (রুমিন) নিজেই একথা বলেছেন। সেহেতু এই সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নেয়া কতটা সমীচীন হবে তিনি তার বিষয়টি ব্যাখ্যা দিলে ভালো হয়। যদিও কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি রুমিন।

Friday, August 23, 2019

পদ প্রত্যাশায় বিবাহিতদের হিড়িক, ছাত্রদলে আবারও সংকট!

পদ প্রত্যাশায় বিবাহিতদের হিড়িক, ছাত্রদলে আবারও সংকট!


নিউজ ডেস্ক: ছাত্রদলের দুই শীর্ষ পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনটির কর্তৃত্ব বাগিয়ে নিতে একদিকে বিশেষ দুটি সিন্ডিকেটের বাধার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অন্যদিকে শর্ত লঙ্ঘন করে মনোনয়ন পত্র জমা দিচ্ছেন বিবাহিতরাও। যার কারণে ছাত্রদলের কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে সফল করা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এমন প্রেক্ষাপটে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিবাহিতরাও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে স্পষ্টভাবে বলা আছে, অবিবাহিত হতে হবে, এসএসসি ২০০০ সালের মধ্যে হতে হবে, বর্তমানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই ভর্তি থাকতে হবে। কিন্তু ফরম জমা দেয়াদের বড় একটি অংশই বিবাহিত এবং তাদের সন্তানও আছে। অনেকে বিষয়টি অস্বীকার করছেন। কেউ বলছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু তালাক হয়ে গেছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, বিবাহিতদের প্রার্থিতা বাতিল করা বা না করা নিয়ে আবারও সংকট দেখা দিতে পারে।
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শঙ্কা প্রকাশ করে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজেরাও জানেন কে বিবাহিত, কে অবিবাহিত। জানার পরও বিবাহিতদের কাছে ফরম বিক্রি করেছেন, জমাও নিয়েছেন তারা। বিষয়টি দুঃখজনক। এতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। তবে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে তা আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে- এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।
বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবু তাহের বলেন, বিয়ে করার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হতে পারেন। আবার কেউ বিয়ে করেছেন কিন্তু তথ্য-প্রমাণের অভাবে প্রার্থিতা বাতিল হলো না- এ ক্ষেত্রেও অন্যরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে। বস্তুত কোনো সমাধান আসছে না।
তিনি আরো বলেন, যদি মনোনয়ন পত্র বিতরণের আগে এগুলো বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতারা সচেতন থাকতেন তবে সংকট এড়ানো যেত। এখানেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
একই ধরণের মতামত ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আমানুর রহমান। তিনি বলেন, যদি যাচাই-বাছাই করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয় তাহলে কোনো সংকট থাকার কথা নয়। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটলে সংকট সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
প্রসঙ্গত, নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে অবশেষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট শেষ দিনে নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ৭৬ নেতা। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিবাহিত বলে জানা গেছে।
বদলে যাচ্ছে ডিএসসিসি

বদলে যাচ্ছে ডিএসসিসি



নাগরিক চাহিদা আর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ের মাধ্যমে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ঢাকাকে বিভক্তির পর বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তায় গত চার বছরে ক্রমান্বয়ে বদলে যাচ্ছে নতুন এ সিটি কর্পোরেশনটি। নগরের সীমানায় নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকাসহ ঢাকা দক্ষিণের পুরো চেহারাতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। উন্নয়নের স্রোতধারায় বর্তমানে অনেকটা বদলে যাওয়া এক বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হচ্ছে। 
৪ বছর আগে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন অবিভক্ত ঢাকার প্রথম নির্বাচিত সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় এ সিটি কর্পোরেশনের অবস্থা সৃষ্টির পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় চলে গেলেও বর্তমানে তার অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তবে ভোটারদের চাহিদার শতভাগ এখনও পূরণ করতে সক্ষম হননি নির্বাচিত এ নগরপিতা। তবে মেয়রকে প্রতিনিয়ত হাজারো সমস্যা আর নানা বাধা অতিক্রম করে জনগণের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। অন্তহীন সমস্যার এ ঢাকা শহরের একাংশের উন্নতিকল্পে কাজ করা মেয়র জনগণের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রতিনিয়তই।
বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছে শান্তিনগর ও নাজিমউদ্দিন রোডের অধিবাসীরা। নগরীর অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে ৯শ’ ৬০ কিলোমিটার সারফেস ড্রেন ও পাইপ নর্দমা পরিচ্ছন্ন, নতুন ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলবে ডিএসসিসি। সমাজের অসহায় বৃদ্ধদের জন্য সদরঘাটে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঢাকার প্রকৃতি ও সবুজ দৃষ্টিকটুভাবে ঢেকে থাকা অবৈধ বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণ করে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ডিজিটাল বিলবোর্ড ও এলইডি বক্স। নগরীর যানজট সহনীয় করতে স্থাপন করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি, ট্রাফিক সাইন, গার্ড রেইল, বাস স্টপেজ, জেব্রা ক্রসিং, অনস্ট্রীট পার্কিং। সর্বশেষ এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যেতে ১০ টাকার এয়ারকন্ডিশন যুক্ত চক্রাকার বাস সার্ভিসও চালু করেছে। এছাড়া নতুন করে মতিঝিল এলাকায় আরও একটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। হকারমুক্ত গুলিস্তানের ফুটপাথে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছরে ডিএসসিসি তার সীমানায় আধুনিক প্রযুক্তির ৪১ হাজারের বেশি এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৮টি ওয়ার্ডে ১৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ চলছে। সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের অর্থে প্রায় ৬শ’ ৭০ কিলোমিটার রাস্তা, ৬শ’ কিলোমিটারের বেশি নর্দমা, ১শ’ ৩৩ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬শ’ কিলোমিটার রাস্তা, ৫শ’ কিলোমিটার নর্দমা এবং ১০০ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দয়াগঞ্জে আধুনিক পরিচ্ছন্নকর্মী নিবাস চালু করা হয়েছে। এছাড়া ধলপুর, লালবাগ ও গণকটুলিতে ছয়তল বিশিষ্ট ৬টি নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৬টির কাজও চলমান রয়েছে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শান্তিনগর, নাজিমউদ্দিন রোড, গণকটুলী এবং বংশাল এলাকায় প্রায় চার যুগের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪শ’ ৯৭ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমা এবং ৫শ’ ৩৭ কিলোমিটার পাইপ ড্রেনের আবর্জনা অপসারণ করেছে বলে জানা গেছে।
ডিএসসিসিতে অধিক নাগরিক সেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে সৃষ্টি হওয়া ঢাকা দক্ষিণের দিকে নজর দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি উন্নয়নের জন্য থোক বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের জন্য সার্বিক সহায়তদার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে কাজে নামেন মেয়র সাঈদ খোকন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী



আবুধাবির উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’। বিলাসবহুল ও বিশ্বসেরা এই বিমানটি আজ ২২ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় (বিজি-০২৭) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড়বে গাঙচিল। অন্যদিকে বিমানের চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে।
জানা গেছে, ২৫ জুলাই দেশে আসে ড্রিমলাইনার গাঙচিল। কোনও রকম যাত্রাবিরতি ছাড়াই সিয়াটল থেকে সরাসরি তা ঢাকায় এসে অবতরণ করে। এর মধ্যে দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টি। ১২ সেপ্টেম্বর ৭৮৭ ড্রিমলাইনার রাজহংস যোগ হলে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬-তে।
গাঙচিল-এ আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানটিতে যাত্রীরা অন্য আধুনিক সুবিধারসহ ইন্টারনেট ও ফোন কলের সুবিধা পাবেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি করে। এরমধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ কেনার কথা ছিল। চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানকে সরবরাহ করে বোয়িং। ১২ সেপ্টেম্বর চুক্তির আওতার সর্বশেষ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানবহরে যোগ হবে।
বিমানের বহরে থাকা ১৫টি উড়োজাহজের মধ্যে ৯টি নিজস্ব, বাকি উড়োজাহাজগুলো বিভিন্ন মেয়াদে লিজে সংগ্রহ করা। বিমানের ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের নাম রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে। এগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

Wednesday, August 21, 2019

রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি নেতাদের অনাগ্রহ, চটেছেন তারেক রহমান!

রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি নেতাদের অনাগ্রহ, চটেছেন তারেক রহমান!



নিউজ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে নামতে সায় নেই দলের অধিকাংশ নেতার। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সিনিয়র নেতাদের ওপর চটেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সূত্র মতে, সম্প্রতি লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের মহাসচিবসহ কয়েক সিনিয়র নেতার কাছে ক্ষুব্ধকণ্ঠে জানতে চান – কেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথের আন্দোলন শুরু করা যাচ্ছে না? তখন তারা তারেক রহমানকে জানান, দলের বিশাল নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ নেতাই রাজপথের আন্দোলনে সায় দিচ্ছেন না। এমনকি দলের স্বাভাবিক কর্মসূচিতেও তারা আসতে চান না। আর নেতারা যদি আন্দোলনে সায় না দেন তাহলে কর্মীদের কীভাবে মাঠে নামানো যাবে? তারপরও তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে আন্দোলন শুরু করার তাগিদ দেন।
আন্দোলনের বিষয়ে তারেক রহমানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পরও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতার সঙ্গে রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর বিষয়ে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং শনিবার (১৭ আগস্ট) ঈদ পরবর্তী বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের বদলে সাধারণ কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়েছেন তারেক রহমান।
১৬ আগস্ট বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারা আমাদের দুর্ভাগ্য। কারণ, আমরা তার মুক্তির জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারিনি।
সূত্র বলছে, মহাসচিবের এমন আক্ষেপের প্রেক্ষিতে তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, দুর্ভাগ্যের কথা বলে কখনো জনসমর্থন পাওয়া যায় না। বরং দুর্ভাগ্যের কথা বলে তিনি লোক হাসাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলকে আপাতত কোনো ইস্যুতে কথা না বলতেও নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুলের মতো রাজপথে অনাগ্রহ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে, দলের নেতাদের রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেয়ার আগ্রহ নেই। দলের নেতাদের মধ্যে অনেকেরই আন্দোলনে সায় না থাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দল থেকে আন্দোলন কর্মসূচি নাও হতে পারে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার নারকীয় পরিকল্পনা!

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার নারকীয় পরিকল্পনা!



নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। আওয়ামী লীগ শূন্য করার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। বিএনপির তত্ত্বাবধায়নে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-হুজির জঙ্গিরা। মুফতি হান্নানের নির্দেশনায় ওই আক্রমণে সরাসরি অংশ নেয় প্রশিক্ষিত ১২ জঙ্গি। হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। আহত হন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় তিন’শ নেতা-কর্মী-সমর্থক।
নারকীয় ওই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শীর্ষ নেতারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। পিন্টুর ভাই হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন এই আক্রমণের জন্য আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করেছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডি সূত্রগুলো জানায়, শেখ হাসিনাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ওই আক্রমণের মূল লক্ষ্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এটা ছিল আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে পরিকল্পিত ও বড় আঘাত।
মুফতি হান্নানসহ জঙ্গিদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রমতে, ২০০০ সালে হুজির মজলিশে শুরার সভায় বিএনপির পরিকল্পনায় শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পরদিন ২০ আগস্ট সকালে মুফতি হান্নান, আবু সাইদসহ দোসররা বৈঠকে বসেন। কারা কারা হামলায় অংশ নেবে, সেখানে তার তালিকা তৈরি করা হয়।
আদালতে মুফতি হান্নান বলেছেন, এর আগে ওই দিনই তিনি তখনকার উপমন্ত্রী পিন্টুর ধানমন্ডির বাসায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবু তাহেরও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে মাওলানা তাজউদ্দিন আক্রমণের জন্য তার কাছে গ্রেনেড হস্তান্তর করেন এবং পিন্টু ২০ হাজার টাকা দেন মুফতি আহসান উল্লাহ কাজলের হাতে।
হামলার আগের দিন ২০ আগস্ট কাজল ও আবু জান্দাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ (রেকি) করে আসেন। ২১ আগস্ট সকালে একই বাসায় উল্লিখিত সবাই এবং হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিতরা একত্র হন। সিদ্ধান্ত হয়, মোট ১২ জন হামলায় অংশ নেবে। এতে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজল ও আবু জান্দাল। এরপর বাড্ডার ওই বাসায় তাঁরা সবাই একসঙ্গে জোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাবার খান। সেখানে তাঁরা সর্বশেষ বৈঠক করেন। মাওলানা সাইদ জিহাদবিষয়ক বয়ান করেন। তারপর মুফতি হান্নান হামলার জন্য নির্বাচিত ১২ জনের হাতে ১৫টি গ্রেনেড তুলে দেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসরের নামাজের সময়ে সবাই যার যার মতো গিয়ে গোলাপ শাহ মাজারের কাছে মসজিদে মিলিত হয়। সেখান থেকে তারা সমাবেশে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত ট্রাকটির চারপাশে অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পর আবু জান্দাল প্রথম গ্রেনেড ছুড়ে মারেন। তারপর অন্যরা একে একে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে যার যার মতো এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এই মামলায় পরে আরও সাত জঙ্গি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক যে জবানবন্দি দেয়, তাতেও হামলা সম্পর্কে এ রকম তথ্য-বক্তব্য উঠে আসে।
এ ছাড়া সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি শরিফ শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপুলও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত কিছু তথ্য দেন।
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অন্তরালে সক্রিয় দুই সিন্ডিকেট!

ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অন্তরালে সক্রিয় দুই সিন্ডিকেট!



নিউজ ডেস্ক: মেয়াদোত্তীর্ণ সর্বশেষ কমিটি বিলুপ্তির পর দীর্ঘ ২৮ বছরের মাথায় সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার সুযোগ পেলো ছাত্রদল। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির সাংগঠনিক শক্তি যখন ক্ষয়িষ্ণু, তখন কমিটিকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। তবে, সেই সম্ভাবনাও আশঙ্কামুক্ত নয়।
ছাত্রদলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের আগ্রহীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ-উৎসব দেখা গেলেও ভেতরে সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার আশঙ্কা করছেন সংগঠনটির নেতারা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে দলের সর্বস্তরে সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ সিদ্ধান্তের আলোকে ছাত্রদলের ‘বয়স্ক’ নেতাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে বাছাই করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে হাইকমান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্রদলের আগ্রহী ও ভোটার পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ইতিবাচক হলেও খোদ দলেরই দুটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। একটি ইলিয়াস আলী গ্রুপ। অন্যটির নেতৃত্বে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। ইলিয়াস সিন্ডিকেটে অন্তত ১০-১২ জন সাবেক ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা যুক্ত আছেন। গ্রুপের শীর্ষ এক নেতা বাদে বাকিরা ছাত্রদলের সার্চ কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে ইলিয়াস আলী বলয়ের অন্যতম নেতা, ঢাকা মহানগর (বিএনপি) দক্ষিণের সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখছি, প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, এটাই তো সত্যি। অন্তরালের একটি গুঞ্জন শুনছি। তবে বিষয়টি কতদূর সত্য তা এখনও আমি জানি না।
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত আপিল কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, সেটা সুবিধাবাদিতার অংশ। যদি এমন কিছু ঘটে, যা সংগঠন বিরোধী, রাজনীতির বিরুদ্ধে চলে যায়, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্য সামনে আসে, তাহলে সেটা আপত্তিকর। কাউন্সিলের প্রারম্ভে যে অভিযোগ উঠছে তা যদি সত্যি হয় তবে অবশ্যই সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tuesday, August 20, 2019

স্টপ ডেঙ্গু অ্যাপ: কি এর কাজ?

স্টপ ডেঙ্গু অ্যাপ: কি এর কাজ?


পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে পাঁচটি মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং চার সংস্থা। এ ছাড়া দেশজুড়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়া ডেঙ্গুর ছোবল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুর ছোবল থেকে মুক্তি পেতে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামের মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে। সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং চারটি সংস্থা একত্রে অ্যাপটি তৈরি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অ্যাপটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 'বাংলার আলোর' আজকের আয়োজনে আপনাকে জানানোর চেষ্টা করবো এই অ্যাপ এর ব্যবহার ও এর কাজ।
মূলত ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে যেকেউ দেশের যেকোনো স্থানে মশার প্রজনন স্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পুরো দেশের মশার প্রজননস্থানের ম্যাপিং তৈরি করা হবে। ফলে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার খুব সহজেই কোন এলাকায় কতজন লোক নিয়োগ করতে হবে, তা মশার জন্মস্থানের ঘনত্ব দিয়ে নির্ধারণ করতে পারবে। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পরিমাণ ওষুধ কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়টিও জানা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে। একই সঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য আগে থেকে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে।
দেশে তিন কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। তারা যেন ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এখন ডেঙ্গু নিয়ে অনেকে অনেক রকম তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু সঠিক তথ্য যাচাইয়ের কোনো সুযোগ বা সুবিধা নেই। ডেঙ্গু বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন কমিউনিটিকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিক ছবি আপলোড করা যাবে। ছবি আপলোড করলে অটো ম্যাপিংয়ে যুক্ত হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে যুক্ত হওয়া ছবি ও তথ্য অনুযায়ী অভিযোগগুলো তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাপটি সরকারি একটি টুল হিসেবে নাগরিকদের ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া জানানোর প্ল্যাটফর্ম হবে।
সম্প্রতি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের ১ হাজার সদস্য নিয়ে ডেঙ্গু সচেতনতায় সম্পৃক্ত হয়। কাজ করতে গিয়ে তাঁরা ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। কেননা ডেঙ্গু নিয়ে সুপরিসর তথ্য কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। ছিল না এর জন্যে কোন নির্দিষ্ট ফোরাম। সে অভাব পূরণ করে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সেবা দিতেই ‘স্টপ ডেঙ্গু’ অ্যাপের ম্যাপিং করা হয়। সাধারণ মানুষ যেন অ্যাপটি সহজেই ব্যবহার করতে পারে, সে দিকটায় খেয়াল রাখা হয়েছে।
অ্যাপটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তা করেছে ই-পোস্ট ও বিডি-ইয়ুথ। অ্যাপটি এখন অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোরে Stop Dengue লিখে সার্চ করলেই পাওয়া যাচ্ছে অ্যাপটি। এপটি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে হওয়ায় যে কেউ এটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আপনার আপলোড করা ছবি এই এপটিকে স্বয়ংসম্পন্ন করবে। তাই আশেপাশে ডেঙ্গুর উৎপাদন স্থল পেলে ছবি তুলে যুক্ত করুন স্টপ ডেঙ্গু অ্যাপে। সিটি কর্পোরেশন ও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার অবস্থান অনুযায়ী ডেঙ্গু নিধনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রাবেয়া ও রোকাইয়া এবং একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী

রাবেয়া ও রোকাইয়া এবং একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী


দুই যমজ বোন রাবেয়া ও রোকাইয়া। জন্ম থেকেই দুজনের মাথা ছিল জোড়া লাগানো। চিকিৎসকদের কাছে এই জটিল অপারেশন ছিল যথেষ্ট কঠিন। অপারেশনের মাধ্যমে এদের আলাদা করাটা ছিল দুই বোনের বাঁচা মরার সংশয়। পাবনার চাটমোহরের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা দম্পতির আর্থিক অবস্থায় নাজুক। কিভাবে ব্যয় ভার বহন করবেন এই জটিল চিকিৎসার, তা নিয়ে এই দরিদ্র পরিবারের চিন্তার শেষ ছিলো না।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শত ব্যস্ততার মাঝেও ২০১৭ সাল থেকেই এই দুই যমজ সন্তানের খোঁজ খবর নেন আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী। তখন থেকেই এই দুই শিশুর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় এবং সামগ্রিক সহায়তা করে আসছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। স্থানীয় সাংসদ মুকবুল হোসেনের মাধ্যমে এই শিশু দুটির অবস্থার খোঁজ রাখতেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
২০১৭ সালের নভেম্বরে ওদের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেসময় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাবেয়া–রোকাইয়ার মস্তিষ্ক আলাদা। কিন্তু ওদের পুরোপুরি আলাদা করার জন্য টিস্যু বাড়াতে হবে। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাবেয়া-রোকাইয়াকে হাঙ্গেরি নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরিতে শিশু দুটির চিকিৎসার জন্য অনুদান পৌঁছে দেন শিশুদের মা-বাবার হাতে। প্রধানমন্ত্রীর হয়ে ওই অনুদান তুলে দেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাস্তব অর্থেই মানবতার নেত্রী। তিনি চিকৎসক ও রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা-মাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে ওদের চিকিৎসার সাফল্য কামনা করেন।
হাঙ্গেরিতে টানা কয়েকমাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরার পর সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় হাঙ্গেরির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচের নিউরো অ্যানেসথেশিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এই দুই শিশুকে আলাদা করার জটিল অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণ করেন।
টানা ৩০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর জোড়া মাথার যমজ দুই বোন রাবেয়া ও রোকাইয়া সুস্থ আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) অস্ত্রোপচার করার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল এবং সাফল্যের হার খুব বেশি নয়। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও সব সময় ঝুঁকি এবং বেশ জটিলতা থাকে। তবে অস্ত্রোপচারের পর রাবেয়া এবং রোকাইয়ার অবস্থা এখন ভালোর দিকে।

Sunday, August 18, 2019

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায় বিএনপি-জামায়াত

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায় বিএনপি-জামায়াত


নিউজ ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক ১৭ আগস্ট। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ভয়াল দিন। ২০০৫ সালের এ দিনে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) একযোগে ৬৩ জেলার ৪৩৪ স্থানে বোমার বিম্ফোরণ ঘটায়।
২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি জামায়াতের শাসন আমলে সরকারি এমপি মন্ত্রীদের মদদে সারা বাংলাদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা। মুছে যায় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাড়া দেশের ৬৩ টি জেলায় মোট ৪৩৪ টি স্থানে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটে। ওইদিনের ঘটনায় দু’জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হন। দেশে এরপর শুরু হয় জেএমবির আত্মঘাতি বোমা হামলা।
পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হয়। আহত হয় ৪ শতাধিক। ওই বছরের ৩ অক্টোবরে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং লক্ষীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।
সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতি এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইজনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। নিহত হয় আত্মঘাতি হামলাকারী জঙ্গিও।
১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর ছাড়া সারাদেশে দায়ের করা হয় ১৩৮ টি মামলা। হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১ হাজার ৪০০ জন গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে ৯৮১ জনকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়। এছাড়া, রাজধানীর ৩৩ টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় ১৮ টি মামলা দায়ের হয়। এই ১৮ টি মামলার মধ্যে ৫ টি মামলার বোমার বাহককে এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ।

Saturday, August 17, 2019

সম্পদ বাঁচাতে শর্মিলার পর এবার দেশে আসছেন জোবায়দা রহমান!

সম্পদ বাঁচাতে শর্মিলার পর এবার দেশে আসছেন জোবায়দা রহমান!




নিউজ ডেস্ক: শনিবার (৩ আগস্ট) মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এসেছেন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার প্রয়াত কনিষ্ঠ পুত্রের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে দেশে এসেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও, গুঞ্জন উঠেছে-বগুড়ায় বাবা জিয়াউর রহমান এবং ফেনীতে বেগম জিয়ার মায়ের সম্পত্তির অংশে স্বামীর প্রাপ্য ভাগ নিতে দেশে এসেছেন শর্মিলা রহমান সিঁথি।
কিন্তু শর্মিলা সিঁথির এমন কর্মকাণ্ডে চটেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মূলত তারেক রহমানের কাছে কোন পরামর্শ না করে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ চাওয়ায় শর্মিলার উপর চরম নাখোশ হয়েছেন তিনি। আর এই কারণে তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকেও লন্ডন থেকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেন, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে শর্মিলা রহমান সিঁথি বিএসএমএমইউতে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার প্রয়াত স্বামী কোকো’র বাবা-মা এর ভাগের প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ চেয়েছেন। ভাগ পেলে সম্পত্তি বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় ব্যাংকে বিনিয়োগ করার কথা শর্মিলা খালেদা জিয়াকে বললে, বেগম জিয়া জেল থেকে মুক্তি পেলে কোকো’র সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ করে প্রাপ্য শর্মিলাকে বুঝিয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। আমার ধারণা, খালেদা জিয়া কখনোই শর্মিলাকে তার পুত্র কোকো’র প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ সরাসরি দিবেন না। বরং কোকো’র মেয়েদের নামে হয়তো তিনি দীর্ঘমেয়াদে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিবেন। কিন্তু হয়তো সিঁথি বেগম জিয়াকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে বাড়তি সম্পত্তির ভাগ আদায় করে নিবেন, সেই শঙ্কা থেকেই তারেক স্যার তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন। যাতে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা বেগম জিয়া ও তার স্বামীর সম্পত্তির ভাগ তারক রহমানও পেতে পারেন।
বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সম্পত্তি ভাগাভাগি এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সম্পত্তির ওপর তারেক রহমান ও কোকো দুইজনেরই সমান অধিকার আছে। কিন্তু কেনো জানি কোকোর স্ত্রী শর্মিলা ও তারেক রহমানের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে তারা এখনি সম্পত্তি বুঝে না নিতে পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবেন। আমি আশা করবো, তারেক রহমান ও শর্মিলা তাদের অন্তর্কোন্দল বাদ দিয়ে যেভাবে হোক খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার চেষ্টা করবেন।